চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে, জানালেন ডিএসসিসির প্রশাসক

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আগুন আর নেই। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পানি ছিটানোসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। এখন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। আশপাশের লোকজনকে সরে গিয়ে উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সহযোগিতা করতে হবে, যাতে দ্রুত রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করা যায়।’
আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে প্রশাসক বলেন, ‘আমি যতটুকু জেনেছি, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে একটি ব্যাগের কারখানা বা গোডাউন থেকে। আশপাশে কাপড়ের গোডাউনও রয়েছে। তবে আগুন ঠিক কী কারণে লেগেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
ঘটনাস্থলে আব্দুল মান্নান নামে একজন জানান, ভবনটির নিচতলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত লেডিস ব্যাগের দোকান রয়েছে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় রয়েছে গোডাউন। তার ভাষ্য, এখানে প্লাস্টিকজাতীয় পণ্যের আধিক্য থাকায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়েছে এবং আগুনের তীব্রতা বেড়েছে। এর সঙ্গে ধোঁয়া ও ভবনের ভেতরে অন্ধকার থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের।
পুরান ঢাকায় আগেও একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, অতীতে রাসায়নিকের কারণে এখানে যেসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটত, সেসব রাসায়নিকের ব্যবসা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এখানে ওই ধরনের রাসায়নিকের ব্যবসা নেই। তবে পুরান ঢাকার অবকাঠামোগত সংকট দীর্ঘদিনের। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এই পরিস্থিতি পেয়েছেন।
প্রশাসক বলেন, ‘যে এলাকায় পাঁচ হাজার মানুষের সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা, সেখানে পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করছেন। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।’
পুরান ঢাকার পানির সংকট নিরসনে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকার যেসব পুকুর এখনো টিকে আছে, সেগুলো সংরক্ষণ ও পানি ধরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো পানির লাইন ও নালা সংস্কারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এসব কাজ বাস্তবায়নে সময় লাগবে।
বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শনে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও জানান আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাধ্যতামূলক। প্রত্যেক বাড়ি, অফিস, মার্কেট ও কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখতে হবে। আগুন লাগার পর শুরুতেই ব্যবস্থা নেওয়া গেলে তা বড় আকার ধারণ করা থেকে ঠেকানো সম্ভব। এ ঘটনা থেকে আশপাশের ভবন ও মার্কেটের মালিকদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
মনসুর ভবনে আগুন লাগার পর পাশের ভবনগুলোতে যাতে আগুন ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয় এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান ডিএসসিসির প্রশাসক। প্রয়োজন হলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।




