শাড়ির আড়ালে ৪ কেজি কুশ, ঢাকায় গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক

গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক অভিজিৎ দাস
শাড়ির আড়ালে ট্রাভেল ট্রলিতে লুকিয়ে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ এনেছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা অভিজিৎ দাস (৪০)। বুধবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে তাকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
সংস্থাটির দাবি, আন্তর্জাতিক ও ত্রিদেশীয় মাদক চোরাচালান চক্রের বাহক হিসেবে কাজ করছিলেন অভিজিৎ। বাংলাদেশে কুশের নতুন বাজার তৈরির চেষ্টাও করছে চক্রটি।
এ সময় তার কাছ থেকে কুশের পাশাপাশি ভারতীয় পাসপোর্ট, মুঠোফোন, বিদেশি মুদ্রা, বোর্ডিং কার্ড ও তিনটি ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান।
তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল দুপুর ১টার দিকে গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয়। এ সময় ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে আসা অভিজিৎ দাসকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষী ও বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে তার ট্রাভেল ট্রলিতে তল্লাশি চালানো হয়। ট্রলিতে কাপড়ের নিচে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৪ কেজি ২৮০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তার ভারতীয় পাসপোর্ট, একটি স্মার্টফোন, একটি বোর্ডিং কার্ড, ২ হাজার ১৬০ ভারতীয় রুপি, ৭০ থাই বাথ ও তিনটি ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিজিৎ দাস জানান, তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা। বনগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে কুলি হিসেবে কাজ করেন।
ডিএনসির দাবি, আন্তর্জাতিক ও ত্রিদেশীয় মাদক চোরাচালান চক্রটি ভারতের নিম্ন আয়ের মানুষদের মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব মানুষকে কলকাতা থেকে ব্যাংককে নেওয়া হয়। পরে ভারতীয় শাড়িসহ বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে মাদক নিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়। এভাবে বাংলাদেশে কুশের নতুন বাজার তৈরির চেষ্টা করছে চক্রটি ।
সংস্থাটির ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া মাদকের একটি অংশ বাংলাদেশে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল অভিজিৎ দাসের। এ জন্য দুই থেকে তিন দিন বাংলাদেশে অবস্থান করার কথা ছিল তার। এরপর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
তবে এ চোরাচালান চক্রে আর কারা জড়িত, বাংলাদেশে কার কাছে মাদক হস্তান্তরের কথা ছিল এবং এর আগে এভাবে কতবার মাদক আনা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে।




