আগামীর সময়

বইমেলা: উপন্যাসে আগ্রহ বইপ্রেমীদের

বইমেলা: উপন্যাসে আগ্রহ বইপ্রেমীদের

গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে খ্যাতি রয়েছে মহিউদ্দিন আহমদের। তবে এবার তিনি প্রকাশ করেছেন উপন্যাস।

‘শেখ মুজিবের লাল ঘোড়া’ নামের বইটি মেলায় এনেছে প্রকাশনা সংস্থা অনন্যা। বাংলাদেশের রাজনীতির এক টালমাটাল সময়ের কথা তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। উঠে এসেছে রাজনৈতিক বেশ কিছু ঐতিহাসিক চরিত্র।

‘ইতিহাসকে উপজীব্য করে উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। একটি বিশেষ সময় এবং ওই সময়ের ঘটনা ও মানুষদের নিয়ে লিখতে গেলে তথ্য নিয়ে অনেক কাজ করতে হয়। মনের মাধুরি মিশিয়ে যেমন খুশি কেচ্ছা বানানো যায় না। কিছু গবেষণা লাগে। তার সঙ্গে থাকে কল্পনার মিশেল। আমি সে চেষ্টাই করেছি।’ পাঠক গ্রহণ করলে— আরও উপন্যাস লেখার আগ্রহ দেখালেন মহিউদ্দিন।

বইমেলার জনসংযোগ বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার পর্যন্ত মেলায় উপন্যাসের বই প্রকাশ হয়েছে ১৫৬টি।

অন্যপ্রকাশের স্টলের বিক্রয়কর্মীরা জানালেন, তাদের স্টলে এখনো হুমায়ূন আহমেদের পুরনো উপন্যাস ভালো বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নতুন কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে ভাল বিক্রি হচ্ছে সাদাত হোসেনের লেখা উপন্যাস।
অনুপ্রাণন প্রকাশন থেকে বিগত কয়েক বছরে শতাধিক বই প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টির বেশি উপন্যাস রয়েছে বলে জানান প্রকাশনা সংস্থার বিক্রয়কর্মীরা।

কথাপ্রকাশ এনেছে হরিশংকর জলদাসের উপন্যাস ‘ঘটোৎকচ’। এই প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মো. ইউনুছ বলছিলেন, ‘আমরা ৩টা উপন্যাস বের করেছি। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের জীবন ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটে লেখা ওয়াসি আহমেদের ‘কার্পাস মহল’ ভালো বিক্রি হচ্ছে।’


অন্বেষা প্রকাশনী থেকে ১০টি উপন্যাস এসেছে। এর মধ্যে ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার ছিল বইমেলার ১২তম দিন। মেলা চলে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলার তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ১৬৩টি।

বিকাল ৩টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শহীদুল্লা কায়সার শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিবলী আজাদ। আলোচনায় অংশ নেন প্রশান্ত মৃধা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

পূর্ববাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিক শহীদুল্লা কায়সার। বামপন্থি রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও লেখকবৃত্তি শহীদুল্লা কায়সারের খ্যাতির মূল কারণ হলেও স্বাধীনতার প্রাক্কালে তার শাহাদাতবরণ তাকে দিয়েছে অনন্য এক মর্যাদা— মনে করেন শিবলী আজাদ।

সারেং বৌ (১৯৬২) এর মাধ্যমে হাতেখড়ি হলেও উপন্যাসে তার দক্ষতার ছাপ প্রথম গ্রন্থেই প্রমাণিত। সংশপ্তক (১৯৬৫) উপন্যাসের প্রকাশ তার ঔপন্যাসিক সক্ষমতার ধারণা দৃঢ় করেছে, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিকের অধিষ্ঠান দিয়েছে—প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে যোগ করেন শিবলী।

‘শহীদুল্লা কায়সারের সৃষ্টিকর্মকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার অবকাশ রয়েছে। সমকালীন রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাই তার উপন্যাসের পটভূমি নির্মাণ করেছে। এজন্য প্রায়শই তার রাজনৈতিক সত্তা তার সাহিত্যিক সত্তাকে অতিক্রম করে গেছে। তিনি তার উপন্যাসে অত্যন্ত শিল্প সফলভাবে গ্রামীণ জীবনের চিত্র তুলে ধরেছেন’ বলছিলেন প্রশান্ত মৃধা।

‘শহীদুল্লা কায়সার বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে অন্যতম প্রধান চরিত্র। তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। তার উপন্যাসগুলোকে যদি জাতীয় চেতনার দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠ করা হয়, তাহলে নিশ্চয়ই অধিকতর সুফল পাওয়া যাবে’ মনে করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন অনুবাদক ফয়েজ আলম এবং জাভেদ হুসেন। বিকাল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি ড. নাঈমা খানম এবং সেলিনা আক্তার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন প্রদীপ মিত্র, সৈয়দ রনো, মাহিনুর মুমু, মো. এনামুল হক এবং ইকবাল আলী।

সংগীত পরিবেশন করেন, আশরাফ মাহমুদ, সনৎকুমার বিশ্বাস, জাবীর ইমাম খান, এটিএম আশরাফ হোসেন, জামাল দেওয়ান, আশরাফুজ্জামান, মফিজুর রহমান, মো. ওবায়দুর রহমান, সুমন চন্দ্র দাস এবং আহমেদ শাকিল হাসমী।

যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন— স্বপন কুমার দাস (তবলা), ইফতেখার হোসেন সোহেল (কী—বোর্ড), মো. শহিদুল ইসলাম (বাঁশি), লক্ষ্মী প্রসাদ দাস (অক্টোপ্যাড) এবং সুমন কুমার শীল (দোতারা)।

মঙ্গলবার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ : সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশ নেবেন হরিশংকর জলদাস। সভাপতিত্ব করবেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

    শেয়ার করুন: