হামে শিশুমৃত্যু ‘হত্যাকাণ্ড’, ইউনূস-নুরজাহানের বিচার চান পেশাজীবীরা

ছবি: আগামীর সময়
হামের টিকা না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে শিশুহত্যার অভিযোগ তুলে সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের বিচারের দাবি জানিয়েছে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’। বুধবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, সহজে প্রতিরোধযোগ্য হাম রোগে শিশুমৃত্যুর জন্য দায় রয়েছে মুহাম্মদ ইউনূস, নুরজাহান বেগম, ডা. মো. সায়েদুর রহমান ও সংশ্লিষ্টদের। তারা মৃত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানান।
বক্তারা দাবি করেন, ইউনিসেফের সহায়তায় দীর্ঘদিন টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণে ছিল হাম। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হামের টাকা আত্মসাৎ করতে ইউনিসেফের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। পরবর্তী সময়ে টিকা না কিনে ঝুঁকিতে ফেলেছে কোটি শিশুর জীবন। এরই মধ্যে সরকারি হিসাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে প্রায় ৫০০ শিশু। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা হাজারের অধিক। আক্রান্ত প্রায় ১ লাখ শিশু।
মানববন্ধনে চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, কৃষিবিদ ও প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের সদস্যসচিব শেখ জামালের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন চৌধুরী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. অহিদুজ্জামান, কৃষিবিদ সাইদুর রহমান সেলিম, কৃষিবিদ মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট শামীম আল সাইফুল সোহাগ, ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল পাশা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের কো-কনভেনার অধ্যাপক তৌহিদ রশীদ এবং অ্যাডভোকেট খায়ের উদ্দীন শিকদার।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী মন্তব্য করেন, হামের টিকা সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রতার প্রকৃত কারণ জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ড. ইউনূস, নুরজাহান বেগম ও ডা. সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রগতিশীল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. অহিদুজ্জামান উল্লেখ করেন, শিশুদের এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, এটি হত্যাকাণ্ডের শামিল। দায়ীদের বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, কৃষিবিদ আ ফ ম মাহবুবুর রহমান, ডা. আতিক, ডা. মামুন, অধ্যাপক আজমল হোসেন ভূঁইয়া, অধ্যাপিকা শবনম, অধ্যাপিকা জামিলা চৌধুরী, অধ্যাপিকা জেবুন্নেসা, ডা. নিটোল, ডা. অসীম, ডা. হুমায়ুন, কৃষিবিদ দীপু, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোর্তুজা ধ্রুব, আইনবিষয়ক সম্পাদক আসাদুর রহমান, নির্বাহী সদস্য সাজেদা হক, রহিমা খানম, রমজান আলী, নাইমুর রহমান স্বপন, বিউটি রানী, গাজী তুষার আহমেদ, শেখ ইমন আহমেদ এবং অ্যাডভোকেট ফজলুল কাদের।





