প্রতিপক্ষের হামলায় আহত শ্রমিকদল নেতার মৃত্যু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত মোহাম্মদপুরের শ্রমিক দল নেতা আবু বকর সিদ্দিক রাসেল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছিল। গত ১৩ আগস্ট হামলার শিকার হন তিনি। এরপর থেকে রাসেল জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি ছিলেন।
হামলার দুইদিন পর রাসেলের স্ত্রী শিরিন আক্তার বাদি হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় জাহিদ হোসেন মোড়ল, পিচ্চি রাকিব, জহিরুল ইসলাম বিপ্লবসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানিয়েছেন, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মারা যাওয়ার পর এটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে। এ মামলায় আগেই কয়েকজন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। বাকিরা পলাতক। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শেরে বাংলা নগর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেছেন, নিহতের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিহতের স্ত্রী শিরিন আক্তার জানিয়েছেন, যুবদল নেতা জাহিদ মোড়লের নির্দেশে তার স্বামীকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী কুপিয়ে আহত করে। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামী মারা যান। হামলার ঘটনায় তিনি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। সে সময় হুকুমের নির্দেশদাতা জাহিদ মোড়লসহ অনেকে আদালত থেকে জামিন নেন।
তিনি বলেন, আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমি সব আসামির বিচার চাই। আমার স্বামীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ২২ জনের নাম উল্লেখ করে আমি মামলা করেছিলাম। আমি চাই, আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, সবাইকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।






