কম সুদে ঋণ ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চান ব্যবসায়ীরা
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
- বন্দরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সেবা চালুর সিদ্ধান্ত
- ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশ

কম সুদে ব্যাংকঋণ ও শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিতসহ কয়েক দফা দাবি জানিয়েছেন শীর্ষ শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উল্লিখিতসহ আরও কয়েকটি দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া কর ব্যবস্থার সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও নিয়ন্ত্রক জটিলতা দূর করার কথা তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, সরকার দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত এবং সেগুলো সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ সময় ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানালেন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও গতিশীল করতে দেশের বন্দরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা শিগগির বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তার ভাষায়, ‘আমরা যত বেশি বসতে পারব, তত বেশি আপনাদের সমস্যাগুলো জানতে পারব এবং সেগুলোর সমাধান করতে পারব।’
আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান বের হয়ে আসে বলে উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনার মধ্য দিয়েই কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসে। এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেছেন, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীরা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এই সভা আয়োজন করেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক ব্যবসায়ী আগামীর সময়কে বলেছেন, শিল্পের উৎপাদন ও নতুন বিনিয়োগ টিকিয়ে রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, সহজ অর্থায়ন, স্থিতিশীল করনীতি এবং নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে দীর্ঘসূত্রতা ও নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বৈঠকে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যবসায়ীরা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার একটি রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন।
উপপ্রেস সচিব প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে বলেছেন, এর আগের বৈঠকে ব্যবসায়ীেদর পক্ষ থেকে উত্থাপিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি প্রক্রিয়াধীন। নতুন করে যেসব সমস্যা উঠে এসেছে, সেগুলো নিয়েও সরকার কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত থাকবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যাতে সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান দেওয়া যায়।
বৈঠক শেষে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানালেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা করেছেন। আগের বৈঠকের ২০টি এজেন্ডার মধ্যে ৮-৯টি বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অগ্রগতি পর্যালোচনায় দুই মাস পরপর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে ব্যবসায়ী সমাজ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অ্যাপেক্স গ্রুপের সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আহসান খান চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ডিবিএল গ্রুপের এম এ জাব্বারসহ ইনসেপ্টা, র্যাংগস, প্যাসিফিক জিন্স, এসিআই, বে ফুটওয়্যার, রানার, ওয়ালটন ও যমুনা গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।






