Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় জাতীয়

দীর্ঘ হলো গ্যাসের অপেক্ষা

নাজমুল লিখন
agamir somoy
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৫
দীর্ঘ হলো গ্যাসের অপেক্ষা

ফাইল ছবি

গ্যাস আসবে— এমন আশায় ছিলেন সবাই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলেছিলেন, সপ্তাহের শুরু থেকেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। উল্টো প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা ভয়াবহ গ্যাসসংকট আরও দীর্ঘ হয়েছে। কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সিএনজি স্টেশনগুলোয় দীর্ঘ লাইন, বাসাবাড়িতে রান্না করতে গিয়ে মানুষকে রাত জেগে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে যাওয়ায় বেড়েছে লোডশেডিং। এরই মধ্যে নতুন করে বাড়ানো হয়েছে এলপিজির দাম, ফলে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল মানুষও পড়েছেন বাড়তি চাপে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান আগামীর সময়কে বলেছেন, গত শনিবারের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। তিনি বললেন, ‘গ্যাসসংকটে মানুষের দুর্ভোগ আমাদেরও কষ্ট দিচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে কাজটি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর হওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে।’

তিনি জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বয়লারের মধ্যে একটি চলতি সপ্তাহেই চালু করা যেতে পারে। এর মেরামতের কাজ প্রায় শেষ, এখন চলছে শেষপর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। দ্বিতীয় বয়লারটিও দ্রুত চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আব্দুল মান্নান বলেছেন, সরকার আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি রাখেনি। জরুরি ভিত্তিতে চার থেকে পাঁচটি দেশ থেকে বিমানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এনে দ্রুত খালাস করা হয়েছে। এখন প্রকৌশলীরা দিন-রাত কাজ করছেন টার্মিনাল সচল করতে। গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর থেকেই দেশ জুড়ে গ্যাসসংকট শুরু হয়। দুর্ঘটনার পর টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আসত ৯০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে দৈনিক সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২১৫ কোটি ঘনফুটে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল পুরোপুরি চালু করতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি। এর আগে একটি বয়লার চালু করা গেলে প্রতিদিন আরও প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে, যা সংকট কিছুটা লাঘব করবে।

গ্যাসসংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বাসাবাড়িতে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকে না। অনেক পরিবার গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে সামান্য গ্যাস পেলেই তড়িঘড়ি করে সারা দিনের রান্না সেরে নিচ্ছেন।

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকার বাসিন্দা কোহিনুর বেগম বলেছেন, রাত জেগে রান্না করতে গিয়ে পরদিন বাচ্চাদের স্কুলে নেওয়া-আনাসহ পুরো দিনের কাজ এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকার বাসিন্দা আসমা আক্তার জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরেই তাদের এলাকায় চুলা প্রায় জ্বলছেই না। একই অভিযোগ মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর আরও অনেক এলাকার বাসিন্দাদের।

গ্যাস না পেয়ে কেউ হোটেল থেকে খাবার কিনছেন, কেউ আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে রান্না করছেন। আবার অনেকে বহুতল ভবনের ছাদ বা বারান্দায় কাঠের চুলা জ্বালিয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন এলপিজি সিলিন্ডার কিংবা ইনডাকশন চুলা।

শুধু গৃহস্থালি নয়, গ্যাসসংকটে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে শিল্প খাতও। গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। কোথাও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, কোথাও আবার অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সময়ে লোডশেডিং বাড়ায় অনেক কারখানাকে ডিজেলচালিত বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

সংকটের মধ্যেই বাড়ল এলপিজির দাম: গ্যাসসংকট যখন তীব্র, ঠিক তখনই ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে বেসরকারি খাতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।

নতুন দাম গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্যবৃদ্ধি, জাহাজভাড়া, ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন হিসাবে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে। পাশাপাশি রেটিকুলেটেড এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১২৯ টাকা ৪০ পয়সা, গ্যাসীয় অবস্থার এলপিজির দাম প্রতি ঘনমিটার ২৮৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির চিন্তা: মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। নিকটবর্তী প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে গতকাল রবিবার সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের বৈঠকে মন্ত্রী এই প্রস্তাব দিয়েছেন।

বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক গ্যাসের বেশ চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়ে বাংলাদেশ বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা জানিয়েছেন। তখন মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাইপলাইন করার আগের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় আনার বিষয়েও কথা হয়।

 

গ্যাসগ্যাস সংকট
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise