স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
প্রতিবন্ধীদের সেবায় এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে সব মন্ত্রণালয়

প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তবায়ন কমিটির সভা
দেশের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন নাগরিকদের সেবা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তবায়ন কমিটির দ্বিতীয় ফলোআপ সভা শেষে এ তথ্য জানান তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইতিমধ্যে ঢাকার কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘শিশুস্বর্গ’ নামক একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে মাধ্যমে বস্তির প্রায় এক হাজার প্রতিবন্ধী শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছর থেকেই এই কার্যক্রমকে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ২০ থেকে ২৫টি উপজেলায় ‘শিশুস্বর্গ’ কর্মসূচি চালু করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলছিলেন, ‘আমরা যখন মাঠ পর্যায় থেকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের খুঁজে বের করব, তখন প্রত্যেক প্রতিবন্ধী নাগরিকের জন্য আলাদা ফাইল খোলা হবে। সেখানে তাদের সুনির্দিষ্ট চাহিদাগুলো লিপিবদ্ধ থাকবে, যেন পরবর্তীতে সমাজকল্যাণ ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করা যায়।’
ড. মুহিত জানান, নতুন নির্মিতব্য ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের যাতায়াতের জন্য র্যাম্প, লিফট এবং অন্তত একটি বিশেষ টয়লেটের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কোনো প্রকল্প মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সেটি ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ’ কিনা, তা কড়াভাবে যাচাই করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, দেশে পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎচালিত ইভি বাস চালুর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানেও প্রতিবন্ধীদের সুবিধার কথা ভাবা হচ্ছে। ঢাকা ও অন্য বড় শহরে চালু হতে যাওয়া ইভি বাসগুলোতে যেন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সহজে উঠতে ও যাতায়াত করতে পারেন, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নতুন উদ্যোগে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ একটি আলাদা সেগমেন্ট রাখা হচ্ছে। স্পেশাল অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা সফল প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের ইতিমধ্যে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সভায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল জানান, প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করা কোনো দয়া বা চ্যারিটি নয়। একটি রাষ্ট্রের সাথে তার নাগরিকদের যে সামাজিক চুক্তি থাকে, সেই চুক্তি অনুযায়ী নাগরিক হিসেবে এটি তাদের প্রাপ্য অধিকার। আমরা সেই অধিকার সুনিশ্চিত করার কাজ করছি।
তিনি বলেছেন, আমরা একটি সমন্বিত ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার’ গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। যেখানে একই কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদিত পণ্যের বিপণন বা মার্কেটিংয়ের সুবিধা থাকবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।



