আগামীর সময়

ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

ছবি: এআই

‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানি তাগিদ।’

ঈদের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে বাজতে থাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা এই গান। গানটি বেজে উঠলেই ছেলে-বুড়ো সবার মন দুলে ওঠে আনন্দে। দীর্ঘ ৯৫ বছর ধরে বাঙালির ঈদ-আনন্দের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে এটি। এই গান ছাড়া রমজানের ঈদ আমাদের অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

সত্যি বলতে কী, গানটি ছাড়া বাঙালির ঈদুল ফিতরের কথা ভাবাই যায় না। আপামর বাঙালির মনে গেঁথে যাওয়া এই গানটি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের অনুরোধে ১৯৩১ সালে। সেই সময় থেকে এটি বাজতে বাজতে ঈদুল ফিতরের অপরিহার্য আগমনী সংগীতে পরিণত হয়েছে।

গানটিকে ধীরে ধীরে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার। ঈদের চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এই গান বাজানোর একটি রীতি প্রতিষ্ঠা করেছে সরকারি এই দুই সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান।

উইকিপিডিয়া বলছে, গানটি লেখার চার দিন পর শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে প্রথম রেকর্ড করা হয়। দুই মাস পরে, ঈদুল ফিতরের ঠিক আগে, গ্রামোফোন কোম্পানি রেকর্ডটি প্রকাশ করে। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে গানটি বাঙালি মুসলিম সমাজে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ঈদের আগমনী গান হিসেবে কালজয়ী হয়ে যায়। রচনার ৯৫ বছরেরও বেশি সময় পার হলেও অন্য কোনো ঈদের গান এতটা জনপ্রিয় ও কালজয়ী হয়ে উঠতে পারেনি।

গানটি রেকর্ডিংয়ের সময় আব্বাসউদ্দীনের বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। তিনি তখনও পূর্ণাঙ্গ গণসংগীতশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেননি। কিন্তু এই গানটি তাকে একজন জনপ্রিয় গণসংগীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। পরবর্তী বছরগুলোতে আব্বাসউদ্দীন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গানটি গেয়ে তার জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি করেন।

বাংলাদেশের আকাশে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শুক্রবার (২০ মার্চ) রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হয়েছে। সে হিসাবে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর শনিবার (২১ মার্চ)।

সাম্য, মৈত্রী, শান্তি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের বার্তা নিয়ে প্রতি বছর আমাদের মাঝে আসে ঈদুল ফিতর। এই দিনে মানুষ হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে যায়। ঈদ মানে একে অপরের ভেতর কোনো অহংকার বা আমিত্ব থাকে না। ঈদুল ফিতর একই সঙ্গে উৎসব ও ইবাদতের আধ্যাত্মিক স্বাদ দেয় প্রতিটি মুমিনের মনে। ধর্মীয় মূল্যবোধে এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলিত ব্যবস্থা সুসংহত করে। ঈদের আনন্দ-চেতনা মানবিকতা জাগ্রত করে।

‘ঈদ’ শব্দটির আরবি মূল ‘আউদ’, যার অর্থ ফিরে ফিরে আসা। ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ ভাঙা বা ইফতার করা। তাই ঈদুল ফিতর মানে দীর্ঘ এক মাস রোজার পর প্রাপ্ত আনন্দঘন উৎসব। শাওয়ালের রুপালি চাঁদ উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি রোজাদারের মনে আনন্দের ঢল নামে।

ইসলামের উৎসবগুলো আনন্দের সঙ্গে ইবাদত হিসেবেও পরিগণিত। দীর্ঘ এক মাস রোজার পর ঈদুল ফিতরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দান-খয়রাত এবং আনন্দ বিলিয়ে দেওয়া। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফিতরা আদায় করা অবশ্যই কর্তব্য। প্রকৃত ঈদ হলো ভোগে নয়, ত্যাগে। ত্যাগের মহিমায় নিজেকে মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিতেই ঈদ উদযাপন করা হয় এবং এ থেকেই রোজার শিক্ষা গ্রহণ করা যায়।

    শেয়ার করুন: