আগামীর সময়

মাটির তলে খুলল দুয়ার, এলো ভারতের জ্বালানি

মাটির তলে খুলল দুয়ার, এলো ভারতের জ্বালানি

সংগৃহীত ছবি

জ্বালানি তেলে পুড়ছে বিশ্ব রাজনীতি। তেলের খনি মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ, তার ধাক্কা সামলাতে ভারত থেকে তেল আনছে বাংলাদেশ। কূটনৈতিক বায়োস্কোপে ‘কী চমৎকার দেখা গেল’! যেখানে মাটির ওপর দিয়ে চলাচল অত্যন্ত জটিল সেখানে মাটির নিচ দিয়ে আসছে ডিজেল।

প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১১৩ মেট্রিক টন হারে যা ঢুকছে গতকাল সোমবার দুপুর থেকেই। এভাবে আসবে ৫ হাজার টন। ওপাসে শিলিগুড়ি থেকে পাঠানো এ তেল প্রবেশ করছে সীমান্তবর্তী উপজেলা পাবর্তীপুরে। কেন পাবর্তীপুরকে বেছে নেওয়া হলো? কারণ সারা দেশের সাথে এ জংশনের আছে সরাসরি যোগাযোগ।

জ্বালানি আসার আগের দিন রবিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মার বৈঠক হয়। সেখানে খোলে মৈত্রী পাইপলাইনের মুখ। বাংলাদেশের চাওয়া, চার মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

২০২৩ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন। এর আগে ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরে শুরু হয় নির্মাণ কাজ। এই পাইপলাইনের সক্ষমতা রয়েছে বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি সরাসরি বহনের।

এর আগে ২০১৬ সাল থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আনা হলেও পাইপলাইন চালু হওয়ার পর থেকে পরিবহন সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। বর্তমানের এই বিশেষ চালানটি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের মজুদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এমনটাই মনে করছেন জ্বালানিখাতে যুক্ত।

দেশে বর্তমানে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা ১২ থেকে ১৩ হাজার মেট্রিক টন। যা মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে চাহিদার পারদ চড়েছে ২০ হাজার মেট্রিক টনে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইতোমধেই বিভিন্ন যানবাহনের জন্য জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বর্তমানে বিপিসির কাছে এক লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আগামী ১৬ থেকে ১৭ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর মধ্যেই ভারত থেকে নতুন এই চালান এবং পরবর্তীতে আরও আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    শেয়ার করুন: