আগামীর সময়

পাম্পে মোটরসাইকেলের দাপট, বিপাকে অন্য যানবাহন

পাম্পে মোটরসাইকেলের দাপট, বিপাকে অন্য যানবাহন

সংগৃহীত ছবি

দেশজুড়ে তেলের পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অন্যান্য যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস সময়ের আগে ও পরে পাম্পগুলোতে পড়ে যাচ্ছে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। তাদের ভিড়ের কারণে জ্বালানি নিতে পারছে না বলে অভিযোগ প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এমনকি জরুরি সেবার যানবাহনের চালকদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহজ চলাচল, রাইড শেয়ার ও কম খরচের কারণে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে মোটরসাইকেলের সংখ্যা। বেশির ভাগ পাম্পে আলাদা লেন না থাকায় সব ধরনের যানবাহন একই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, যা সৃষ্টি করছে বিশৃঙ্খলা।

ভুক্তভোগী গাড়িচালকরা অভিযোগ করে বলেছেন, অনেক সময় মোটরসাইকেল চালকরা নিয়ম না মেনে সামনে ঢুকে পড়েন, ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এতে অপচয় হচ্ছে সময় ও জ্বালানি।

রাজধানীর তালতলা এলাকার পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা এক বাসচালক অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমি অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি তেল নিব। কিন্তু মোটরসাইকেলের সিরিয়ালের জন্য সামনে আগাতেই পারছি না। একটু আগাতেই সামনে চলে আসে মোটরসাইকেল।’

পরীবাগ পেট্রোল পাম্পে কয়েকজন প্রাইভেটকারচালক জানান, আমরা তেল নিতেই পারি না। মোটরসাইকেলের লম্বা সারি। জায়গা স্বল্পতায় গাড়ি পাম্পে  ঢোকাতে গেলেই সামনে চলে আসে মোটরসাইকেল।

এ বিষয়ে ফিলিংস্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাভাবিকের চেয়ে আমরা কয়েকগুণ বেশি তেল দিয়েও পরিস্থিতি সামলাতে পারছি না। সবাই ট্যাংকি ভরে তেল চাচ্ছে। আমাদের সরবরাহ কম। তাই সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছুই করার নেই।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমস্যা সমাধানে পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন চালু করা, তদারকি জোরদার করা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

চলমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেক দেশই জ্বালানি সংকটের মুখে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। যার প্রভাব পড়ছে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলো এ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

    শেয়ার করুন: