Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় জাতীয়

কূটনৈতিক ব্যর্থতায় ছোট হচ্ছে শ্রমবাজার, বাড়ছে মানব পাচার

  • সুযোগ নিচ্ছে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো দেশ
  • ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বছরে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি মারা যান
  • গত বছরের মার্চ পর্যন্ত মানব পাচার আইনে ৪,৪৪৮টি মামলা হয়েছে
সাখাওয়াত কাওসার
সাখাওয়াত কাওসার
agamir somoy
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ২৩:১১
কূটনৈতিক ব্যর্থতায় ছোট হচ্ছে শ্রমবাজার, বাড়ছে মানব পাচার

স্বপ্নের দেশ ইতালি যেতে চেয়েছিলেন বানিয়াচংয়ের ২৩ বছরের যুবক শাহ মো. মাউন। এজন্য দ্বারস্থ হন লিবিয়ায় থাকা হাসান মোল্লা সিন্ডিকেটের। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৫ লাখ টাকা চুক্তিতে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া নেওয়া হয় তাকে। এরপর দালাল চক্র ইতালির উদ্দেশ্যে নৌকায় তুলে দেয় মাউনসহ অন্তত ৩৮ জনকে। তবে ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি মাউনের। শুধু মাউন নয়, ওই নৌকায় থাকা বানিয়াচং ও আজমেরীগঞ্জের ১২ জন হতভাগা যুবকের পরিবার এখনো জানে না তাদের স্বজনরা বেঁচে আছেন কিনা? নাকি অথৈ সাগরেই হয়েছে তাদের সলিল সমাধি।

জাপান যাওয়ার স্বপ্ন ছিল রাজধানীর মিরপুরের তরুণ জাহিদ হাসানের। ফেসবুকে চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে ২০২৩ সালের শুরুতে ‘ওয়েসিস নেট লিংক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে তিন দফায় জমা দেন দেড় লাখ টাকা। প্রতিশ্রুতি ছিল তিন মাসের মধ্যে পাবেন জাপানে চাকরি। কিন্তু মাসের পর মাস ঘুরিয়েও তাকে বিদেশ পাঠানো হয়নি। পরে জাহিদ জানতে পারেন, তার মতো আরও ৫০ জনের কাছ থেকে কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। শেষ পর্যন্ত মামলা হলে গ্রেপ্তার হন প্রতিষ্ঠানটির মালিক সাইদুল ইসলাম।

শুধু জাহিদ নন— জাপান, ইতালি, কানাডা কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতিদিনই প্রতারণা করা হচ্ছে অসংখ্য তরুণের সঙ্গে। তাদের কেউ দালালের হাতে সব হারাচ্ছেন, কেউ অবৈধ পথে বিদেশ যেতে গিয়ে সাগরে ডুবে মারা যাচ্ছেন। আবার কেউ সীমান্তে গুলিতে প্রাণ দিচ্ছেন।

অনুসন্ধান বলছে, বৈধ শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকারের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ব্যর্থতা, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিষ্ক্রিয়তা এবং জনশক্তি রপ্তানিতে সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিচ্ছে মানবপাচারকারী চক্র। বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় হাজারো তরুণ এখন অবৈধ পথে বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। দালালের খপ্পরে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ কম্বোডিয়ার ক্যাম্প সেন্টারে এবং যুদ্ধদাস হিসেবে পাচারের শিকার হচ্ছেন সহজ সরল মানুষগুলো।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সামনে খোলা বিশাল আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার। কিন্তু বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টো পথে। ফলে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রতিযোগিতায় এখন নেপালের মতো ছোট দেশও বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে দেশে বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ যত সংকুচিত হচ্ছে, ততই ফুলেফেঁপে উঠছে দালালদের ব্যবসা। গড়ে উঠেছে হাজার কোটি টাকার এক বিশাল মানব পাচারের বাজার। বিপরীতে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান আগ্রাসী কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দখল করে নিচ্ছে সেই বাজার।

সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, জাপানে নার্সিং, নির্মাণ, কৃষি, কেয়ারগিভার ও অটোমোবাইল খাতে বিপুল কর্মীর চাহিদা। কিন্তু এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ।

দেশে প্রতি বছর ৩০ হাজারের বেশি নার্স, প্রায় ৮ হাজার চিকিৎসক, ৯ থেকে ১১ হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ৩৫ হাজারের বেশি বিএসসি প্রকৌশলী, এক লাখেরও বেশি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং হাজার হাজার কৃষিবিদ কর্মবাজারে প্রবেশ করছেন। অর্থাৎ দক্ষ জনশক্তির অভাব নেই; অভাব সেই জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করার।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নেপাল থেকে জাপানে গেছেন ৫৬ হাজার ৭০৭ কর্মী। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে গেছেন মাত্র ৩ হাজার ৫৭৪ জন। অথচ জনসংখ্যা, দক্ষ জনশক্তি ও কারিগরি সক্ষমতায় বাংলাদেশ নেপালের তুলনায় অনেক এগিয়ে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য আরও উদ্বেগজনক। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে জাপানে গেছেন মাত্র ১ হাজার ৮৪৯ জন কর্মী। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে গেছেন মাত্র ৫ জন।

জনশক্তি রপ্তানিতে কূটনৈতিক ব্যর্থতা কতটা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘অতীতে বিদেশের বিভিন্ন মিশনের বিরুদ্ধে ছিল নানা অভিযোগ। অনেক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে প্রাধান্য দিয়েছেন রাজনৈতিক পরিচয়। তবে এখন মিশনগুলোকে প্রবাসীবান্ধব এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষায় আরও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে মৃত্যুর মিছিলও থামছে না। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপ যেতে গিয়ে বছরে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে ভূমধ্যসাগর বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিবাসন রুটে পরিণত হয়েছে। সেখানে মারা যাওয়া হাজারো মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি।

মানবাধিকারকর্মীরা জানাচ্ছেন, বৈধ শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ায় হতাশ তরুণদের বড় অংশ। তারা এখন দালালদের মাধ্যমে ‘বডি কন্ট্রাক্টে’ বিদেশে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ভিজিট ভিসায় গিয়ে পরে অবৈধভাবে থেকে যাচ্ছেন। এতে বিদেশে গিয়ে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা ফেরত আসার ঘটনাও বাড়ছে।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের ম্যানেজার ও ‘টিআইপি হিরো’ আল আমিন নয়ন মন্তব্য করেন, ‘মানবপাচার এবং প্রতারণা ভয়াবহ আকারে বাড়ছে। সরকারের সংস্থাগুলো সবকিছুই জানে। জনশক্তি রপ্তানিতে পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা দেখেও আমরা শিখছি না। এটা খুবই লজ্জার।’

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৬ হাজার ৩২৫টি মানবপাচার সংক্রান্ত মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় পাচারের শিকার হয়েছেন ৯ হাজার ৩০৯ জন। পাচারের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ২৭ হাজার ৯৬১ জন। পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে ১০ হাজার ৮২৯ জনকে। অধিকাংশ মামলাই এখনো তদন্ত বা বিচারাধীন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বড় মানবপাচার চক্রগুলোর সঙ্গে দেশি-বিদেশি দালাল, অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি এবং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। ফলে অভিযানের পরও এই অপরাধ বন্ধ হচ্ছে না।

একজন সাবেক কূটনীতিকের ভাষ্য, ‘বাংলাদেশের অনেক দূতাবাসে অর্থনৈতিক কূটনীতির চেয়ে আনুষ্ঠানিকতা বেশি গুরুত্ব পায়। জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে দূতাবাসগুলোর যেভাবে সক্রিয় থাকার কথা, বাস্তবে তা দেখা যায় না। ফলে শ্রমবাজার অন্য দেশ দখল করে নিচ্ছে।’

এর সাথে বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারী সিন্ডিকেট। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, বেকারত্বের হার ২০২২ সালে ছিল ৩.৫৩ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৩.৩৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৩.৬৬ শতাংশ এবং বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬.২ লাখ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৬৩ শতাংশে দাঁড়ায়, আর বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছায়।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের গত বছরের গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে প্রতিবছর আনুমানিক ৬ হাজার থেকে ২৪ হাজার মানুষ মানবপাচারের শিকার হয়। ভুক্তভোগীদের বড় অংশই নারী ও শিশু। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হলে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো সহজে পাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে।

‘অর্গানাইজড ক্রাইম ইনডেক্স-২০২৫’ অনুযায়ী, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫ দশমিক ৩০ স্কোর নিয়ে ৮৩তম। তবে ২০২৩ সালে ৫ দশমিক ১২ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮৯তম। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বৈশ্বিক এ সূচক অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। বিশেষ করে আর্থিক অপরাধ, অবৈধ পথে মানব পাচার, অস্ত্র চোরাচালান, মাদক ব্যবসা ও নকল পণ্যের বিস্তার সবগুলো ক্ষেত্রেই স্কোর বেড়েছে দশমিক ৫০। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মানবপাচারে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে কেবল জার্মানিতে সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত আছেন মাত্র প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং পর্তুগাল মিলিয়ে এই সংখ্যা মাত্র প্রায় ১৫ হাজার।

অন্যদিকে, কেবল জার্মানিতেই এক লাখ ৬৫ হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত করদাতা রয়েছেন, যার ৫০ শতাংশের বেশি সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত।

ইউরোপের একটি দেশে কর্মরত বাংলাদেশি কূটনীতিক জানাচ্ছিলেন, ভারতীয়দের বিদেশে পড়াশোনার জন্য ব্যাংক লোনের ক্ষেত্রে দুই বছর কোনো সুদ দিতে হয় না। বাংলাদেশ এই সাপোর্ট দিচ্ছে না। গত ৩০ বছর ধরে ভারতীয়রা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মানজনক পদ দখল করে ফেলেছেন এবং এখন নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা ভারতীয়দেরই প্রাধান্য দেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিযোগ, ইউরোপে ভারতীয় এবং নেপালি মিশনের কর্মকর্তারা বছর জুড়েই কর্মসংস্থানের জন্য তৎপর থাকেন। আর আমাদের দেশের মিশন কর্মকর্তারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন।

ইতালির মিলানে বসবাসরত কমর উদ্দীন আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘মিলান মিশনে পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে মাসের পর মাস ঘুরতে হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের। ইতালির মতো দেশেও আমাদের দেশের দূতাবাসের সামনে দালাল রয়েছে।’

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, লিবিয়া, বাহরাইনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য নানা বিধিনিষেধ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০১২ সাল থেকেই বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া সীমিত করে দেয়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশি মুয়াজ্জিনের হাতে বাহরাইনের নাগরিক খুনের পর দেশটি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সেখানে গেছেন মাত্র ৮ জন।

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে একসময় বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান থাকলেও এখন ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান সেই জায়গা দখল করছে। অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দূতাবাসে জনশক্তি রপ্তানির বদলে প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতাই বেশি গুরুত্ব পায়। ফলে দক্ষ জনশক্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। আবার বৈধ ভিসা যাচাই ও ছাড়পত্র প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে অনেক কর্মী বাধ্য হয়ে দালালচক্রের কাছে যাচ্ছেন।

ধানসিঁড়ি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক মো. মাহাবুব ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘বিদেশে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারদের কার্যকর উদ্যোগ থাকলে এত মানুষ অবৈধ পথে যেত না। এখন কর্মীরা নিজেরাই ভিসা জোগাড় করছে, আবার ছাড়পত্র না পেয়ে দালালের কাছে যাচ্ছে।’

তিনি জানান, লাওস, কাতার, কুয়েত, সার্বিয়া, ইতালি ও ফিজিসহ বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার ভিসা আটকে আছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অনেকে অবৈধ উপায়ে বিমানবন্দর পার হচ্ছেন।

তবে বিএমইটির সদ্য সাবেক মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর দাবি করছেন, তিনি যোগদান করার পর আনডকুমেন্টেড কয়েকটি দেশের কর্মীদের ছাড়পত্র দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। তিনি এসব ভিসায় বহির্গমন ছাড়পত্র দেবেন কি দেবেন না তা উল্লেখ করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত দিয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে তাকে কিছুই জানানো হয়নি, তাই তিনিও ছাড়পত্র ইস্যু করে নতুন বিতর্কে জড়াতে চাননি।

এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে বিদেশে কর্মরত ও সাবেক ৩৮ জন কূটনীতিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। ইতোমধ্যে অনেকের অপরাধের প্রমাণাদিও পেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলছিলেন, ‘বহির্বিশ্বে বৈধভাবে জনশক্তি কিংবা পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়টা খুব জরুরি। সর্বোপরি সরকারের সর্বোচ্চ মহলের মনিটরিং খুব দরকার, অন্যথায় এই সংকট চলতেই থাকবে।’

শ্রমবাজারশ্রমিকসরকার
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise