সাক্ষাৎকার
মশামুক্ত নগরী গড়তে চাই সামাজিক আন্দোলন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শুধু মন্ত্রী, মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে ঢাকাকে মশামুক্ত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এই নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি উবায়দুল্লাহ বাদল
আগামীর সময়: রাজধানীবাসীর অভিযোগ, মশার উপদ্রব কমেনি। সরকার মশা নিয়ন্ত্রণে কী কী উদ্যোগ নিয়েছে?
মীর শাহে আলম: মশা নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস এবং যাতে এই মশা বৃদ্ধি না পায়, সেজন্য জাতীয় একটি কমিটি আছে। কমিটিতে ১৭টি মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত। সেই কমিটির সভায় আমাকে প্রধান করে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। আমি উপস্থিত থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চার থেকে পাঁচ দিন অভিযান পরিচালনা করেছি। নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক অসচেতনতা দেখেছি। নাগরিকরা যদি সচেতন না হন, সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে এককভাবে এত বড় মহাকর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। চেষ্টার সুফল হিসেবে আমি শুধু এটুকুই বলব, জনগণের সহযোগিতার ফলে এবার কিন্তু ডেঙ্গু রোগীর হার তুলনামূলক অন্য বছরের তুলনায় অনেক কম।
আগামীর সময়: এডিস মশা নির্মূলে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে?
মীর শাহে আলম: বাড়ির ছাদ ও বেলকনিতে জমে থাকা পানি এবং বাড়ির আশপাশে অপরিষ্কার ময়লা-আবর্জনা, ময়লার মধ্যে প্লাস্টিকের কাপ, প্লাস্টিকের গ্লাস, প্লাস্টিকের জিনিসপত্র, ডাবের খোসাসহ এ ধরনের অনেক জিনিসপত্রের মধ্যে জমে থাকা পানিই এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল। টাস্কফোর্স পরিচালনার সময় সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর মনে হয়েছে রাজধানীর নির্মাণাধীন ভবনগুলো। এসব ভবনে সর্বোচ্চ এডিস মশার উৎপত্তিস্থল দেখেছি। আমরা তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছি ভবন মালিকদের। সেখানে আমরা স্টিকার লাগিয়ে দিয়েছি। এ ছাড়া দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলাগুলোয় মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে র্যালি ও সভা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামীর সময়: ডেঙ্গুর জন্য রাজধানীর কোন কোন এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন?
মীর শাহে আলম: যে কজন ডেঙ্গু রোগী আমরা ঢাকায় পেয়েছি, জরিপ করে দেখেছি তাদের ম্যাক্সিমাম ঢাকার আশপাশের শহরতলির। অধিকাংশ রোগীই সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে বসবাস করে। সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকাগুলোর বাইরে ডেঙ্গু রোগী আমরা বেশি পেয়েছি। আমাদের কাছে যে জরিপ রয়েছে, তাতে দুই সিটি করপোরেশন এবং মহানগরে যারা বসবাস করেন, তারা সচেতনভাবে তাদের বাড়িঘর, আঙিনা পরিষ্কার করেছেন। আমরা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যতটুকু পারি চেষ্টা করেছি।
আগামীর সময়: ডেঙ্গু নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো সমন্বয়হীনতা দেখছেন কি না?
মীর শাহে আলম: বিষয়টি নিয়ে একধরনের ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে বলে আমার মনে হয়। এখানে সমন্বয়হীনতার কোনো সুযোগ নেই। কারণ স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ হচ্ছে ডেঙ্গু হওয়ার পরে। আর আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে, উপজেলা পর্যায়ে সচেতনতামূলক কাজ করে; কিন্তু মূলত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ হচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগের হাতে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ লেভেলেও আমাদের কিন্তু টাস্কফোর্সের কমিটি আছে এবং সেই কমিটিগুলো তাদের সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকে মশা নির্মূলে অনেক কাজ করার চেষ্টা করেছে।
আগামীর সময়: মশা নিয়ন্ত্রণে যে কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে, এর কার্যকারিতা নিয়ে কি প্রশ্ন উঠছে? অনেকেই এসব নকল বলছেন!
মীর শাহে আলম: আমরা আগেই এমন অভিযোগ পেয়েছি। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে— মশক নিধক যে মেডিসিন বা ওষুধ, এটি কেনার আগে সাপ্লায়ার—সরবরাহকারী নমুনা পরীক্ষা করে দেখার, সনদ রেখে প্রয়োগ করার। এর ব্যত্যয় ঘটালে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব।
আগামীর সময়: ডেঙ্গু নির্মূল ও বিশ্ব মশা দিবসে দেশবাসীর উদ্দেশে আপনি কী বলতে চান?
মীর শাহে আলম: নগরবাসীকে অনুরোধ করব, সিটি করপোরেশন আপনাদের বাড়ির ছাদে গিয়ে পরিষ্কার করতে পারবে না। সিটি করপোরেশন আপনার বেলকনিতে যে ফুলের টবটি রয়েছে, সেটি পরিষ্কার করতে পারবে না। আপনার বাউন্ডারি ওয়ালের ভেতরে গিয়ে যে ময়লা-আবর্জনা বা এডিস মশার লার্ভা উৎপত্তিস্থলগুলো পরিষ্কার করতে পারবে না। এই পরিষ্কারগুলো আপনাকেই করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে যে পানি রাখা হয় বিভিন্ন জায়গায়, সেই পানির জন্য আমাদের একটা ট্যাবলেট আছে— যে ট্যাবলেটটি সিটি করপোরেশনের প্রতিটি আঞ্চলিক অফিসে পাবেন, স্বাস্থ্য বিভাগে। সেখান থেকে এই ট্যাবলেটটি ওই পানির মধ্যে নিক্ষেপ করলে ৪০ দিন ওই পানির মধ্যে এডিস মশার লার্ভা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।
আগামীর সময়: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মীর শাহে আলম: আপনাদেরও ধন্যবাদ।






