চার শতাব্দীর রহস্যময় কঙ্কাল!

আপাতত কঙ্কালটির প্রকৃত পরিচয় কিংবা কীভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল, তার কোনোটিই স্পষ্ট নয়।
চার শতাব্দীর রহস্য! চার্চের পুরনো মেঝে খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে এলো শত শত বছরের আগের একটি কঙ্কাল। মুহূর্তেই চারদিকে গুঞ্জন— ‘এই তো! এ নিশ্চয়ই সেই বিখ্যাত ডি আর্টানিয়ান!’ যে নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে তলোয়ার হাতে দুর্ধর্ষ এক মাস্কেটিয়ারের ছবি। কিন্তু ইতিহাস যে এত সহজে তার রহস্যের তালা খোলে না! তদন্ত যত এগিয়েছে, রহস্য ততই ঘনীভূত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিখট শহরের সেন্ট পিটার অ্যান্ড পল চার্চের নিচে চলতি বছর পাওয়া ওই কঙ্কালটি আসলেই কিংবদন্তি ফরাসি মাস্কেটিয়ার চার্লস দ্য বাতজ দ্য কাস্তেলমোর, অর্থাৎ ডি আর্টানিয়ানের কি না— তা এখনো নিশ্চিত নয়। বরং নতুন নতুন তথ্য সামনে এসে আগের ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।
শহর কর্তৃপক্ষ বলছে, আপাতত কঙ্কালটির প্রকৃত পরিচয় কিংবা কীভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল, তার কোনোটিই স্পষ্ট নয়। ভবিষ্যতে আরও গবেষণার মাধ্যমে হয়তো ইতিহাসের এক অমূল্য ধন আবিষ্কার হবে, আবার এটাও হতে পারে— সবটাই ছিল ভুল ধারণা।
তবে কিছু তথ্য ডি আর্টানিয়ানের সঙ্গে মিলেও যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কঙ্কালটি ৪৪-৬৬ বছর বয়সী এক পুরুষের। ডি আর্টানিয়ান মারা যাওয়ার সময় তার বয়স ছিল ৬২ বছর— অর্থাৎ বয়সের হিসাবে মিল রয়েছে। কিন্তু সমস্যা শুরু হয়েছে অন্য জায়গায়। গবেষকরা কঙ্কালের হাড় পরীক্ষা করেও নিশ্চিত হতে পারেননি, ঠিক কোন সময়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। আর খাদ্যাভ্যাসের বিশ্লেষণ তো আরও বড় ধাঁধা তৈরি করেছে। হাড়ের রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি নিয়মিত প্রচুর মাছ খেতেন। এমন খাদ্যাভ্যাস সাধারণত পূর্ব কিংবা দক্ষিণ ইউরোপের মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অথচ ডি আর্টানিয়ানের জন্ম হয়েছিল ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্যাসকনি এলাকায়।




