হয়তো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আজ থেকে ৭০ বছর পর। ২০৯০ সালের কথা। রাস্তায় বের হলেই নাকি মিলবে ‘গ্রিন হিউম্যান’। সবুজ আভাযুক্ত মানুষ। অদ্ভুত হবে আসছে পৃথিবীর ওই মানুষগুলোর খাদ্যাভ্যাস। খাদ্য গ্রহণ করবে গাছের মতো; সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে। পার্কে বসে রোদ পোহাতে পোহাতে। ঠিক গাছ যেভাবে নিজের খাবার তৈরি করে। সায়েন্স ফিকশন গল্পের কাহিনি মনে হলেও ভবিষ্যতে মানুষের কোষে উদ্ভিদ জগতের এ বিশেষ যোগ্যতা থাকবে বলে ধারণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎবিষয়ক ওয়েবসাইট ফিউচার টাইম। এটিতে আসছে বছরগুলোর পূর্বাভাস দিয়ে থাকেন একই দেশের ভবিষ্যৎবিদ উইল ফক্স।
সালোকসংশ্লেষণ হলো সেই জাদুকরী প্রক্রিয়া; যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোক, বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে নিজেদের খাদ্য তৈরি করে। প্রকৃতির গাছগাছালি আর উদ্ভিদ এ প্রক্রিয়ায় চললেও মানুষের কোষ খাদ্য উৎপাদনে সক্ষম নয়। তবে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার উন্নতিতে ভবিষ্যতে মানুষও পারবে নিজের খাদ্য নিজের শরীরেই তৈরি করতে। ভবিষ্যতের নানা পূর্বাভাস দেওয়া এ ওয়েবসাইটের মতে দ্রুত শক্তি অর্জনের কৌশল হিসেবেই ব্যবহৃত হবে এ পদ্ধতি। বায়োটেকনোলজি এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে চাইলেই যে কোনো ব্যক্তি নিজ শরীরে এ খাদ্য উৎপাদনের কোষ অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। পুরো শরীরে যুক্ত করতে না চাইলে সেক্ষেত্রে মাথার চুলে ছোট কোষ যোগ করা যাবে। আর তা হলে আশপাশে অনেকেই ঘুরবে ক্লোরোফিলের (গাছের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে) মতো সবুজ রঙের চুল নিয়ে। সবুজ রঙ অপছন্দ হলে অন্য রঙের হেয়ারস্টাইলও করতে পারবে মানুষ। তবে যারা আগ্রহী তারা নিজেদের শরীর জুড়েই রাখতে পারবে ‘ফটোসিন্থেটিক স্কিন’ বা সালোকসংশ্লেষণ চামড়া। অনেকটা সোলার প্যানেল শরীরে নিয়ে ঘোরার মতোই এটি দেহে কাজ করবে দ্বিতীয় চামড়া হিসেবেই। ভবিষ্যৎভিত্তিক এ ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়েছে, এক ঘণ্টা কড়া রোদে বসলেই আগামী ২৪ ঘণ্টার কর্মশক্তি জোগাড় করতে পারবে মানুষ। আর এমন হলে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা এ রকমের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা রোগীদের কিছুটা হলেও সমাধান হবে।
সালোকসংশ্লেষণের উপযোগী প্রাণিকোষ তৈরির গবেষণা বেশ পুরনো। ১৯৭০ শতক থেকেই অনেক বিজ্ঞানী এ সেক্টরে একটি সফল ফলাফল অর্জনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীদল সফলভাবে এমন প্রাণিকোষ তৈরি করেছে, যা সালোকসংশ্লেষণে সক্ষম। জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গবেষকদলের প্রধান হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক সাচ্ছিহিরো মাতসুনাগা। প্রাণিদেহের কোষে সালোকসংশ্লেষণ সক্ষম বৈশিষ্ট্য যুক্ত করার মাধ্যমে গবেষক দলটি এমন সব কোষ তৈরি করতে চাইছে, যা কম অক্সিজেন গ্রহণ করবে এবং কম কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত করবে।




