বোধ হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেই জীবন সেট!’ কিন্তু এমন একটা সময় নাকি আসবে, যখন শিক্ষার্থী নয় বরং নিজের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার জন্য লড়াই করতে হবে খোদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই। ২০৩০ সালেই সেই চল শুরু হবে বিশ্বে। যখন একটি ডিগ্রি অর্জনেও দুবার ভাববে মানুষ! চিন্তায় পড়ে যাবে। কারণ তত্ত্ব নয়, সামনের দিনের বাজার হবে দক্ষতার। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন দ্য নিউ ইউর্কের এক প্রতিবেদনে চলতি মাসেই এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন দেশটির লেখক জে ক্যাস্পিয়ান কাং।
তার মতে, আগামী চার বছর পরই উচ্চশিক্ষার পৃথিবীতে আসবে বড় রকমের পরিবর্তন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যাবে বন্ধ। আবার কিছু ছোট বিশ্ববিদ্যালয় জোড়া লাগবে অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।
সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও অনেক নেমে আসবে বলে ধারণা কাং-এর। কেননা পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি, জনসংখ্যা কমে আসা, এসবের মধ্যে অনেকেই বাড়তি খরচ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে না। হাতেনাতে কাজ শিখে ঢুকবে চাকরির বাজারে। তবে হাজারো বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপে থাকবে না যুক্তরাষ্ট্রের ‘আইভি লিগ’-এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। আটটি বিশ্ব বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গঠিত এ তালিকা। আছে সবার চেনা হার্ভার্ড, ইয়েল, পেনসিলভানিয়া, প্রিন্সটন, কলাম্বিয়া, ব্রাউন, কর্নেল আর ডার্ট মাউথ কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐতিহ্য আর খ্যাতি ধরা-ছোঁয়ার এতই বাইরে, কোনো ঝড়-তুফান তাদের সরাতে পারবে না। আসছে বছরগুলোয় বিশ্ববিদ্যালয় আসলেই কমে আসার আরেকটি কারণ হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে। আগে ছাত্ররা তাদের অ্যাসাইনমেন্ট বা পড়া শিখত শিক্ষকদের কাছে। কিন্তু এখন শিক্ষকের দ্বারে-কাছে যাওয়ার আগে তারা যায় নানা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে। এতে এআইকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শত্রু বানাবে নাকি ক্লাসের নতুন সহপাঠী হিসেবে গ্রহণ করে নেবে সেটিই প্রশ্ন। হালেই অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সিলেবাসে যুক্ত করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আবার কিছু শিক্ষক তাদের ক্লাসরুমে এবং বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্টে এআইয়ের ‘ইথিক্যাল’ ব্যবহার অর্থাৎ পড়া সহজ করা বা নোট নেওয়ার মতো কাজে এ প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করছেন।
কাং-এর এসব আলোচনার মূল বার্তা হলো, সময়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার মান এবং সিলেবাসের বিষয় উন্নত করা। কারণ হাল আমলেই মানুষের অনেক কর্মক্ষেত্র খেয়ে নিচ্ছে এআই। তাহলে ভবিষ্যতের দিনে কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়। যে কাজ সেকেন্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে করা যায়, সেখানে কর্মচারী নিতে আগ্রহ হারাবে অনেক প্রতিষ্ঠানই। এমন অবস্থায় এআই যা পারবে না, সে পথে হাঁটতে হবে মানুষকে। সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা, গবেষণা আর মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ বাড়ানোর শিক্ষাব্যবস্থায় অগ্রাধিকার পাবে সে সময়।




