দেখা যাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আদিকালের সেই হালচাষভিত্তিক কৃষি এখন আর নেই বললেই চলে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে গ্রামবাংলার মাঠে। আগের তুলনায় চাষাবাদ অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে এটি আরও সহজতর হয়ে উঠবে। আগামীর কৃষকরা ড্রোন ব্যবহার করে কৃষিকাজ পরিচালনা করবেন। জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ ও সেচের কাজ করবে ড্রোন। ২০২৩ সালেই কৃষিক্ষেত্র সম্পর্কে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মার্কিন ভবিষ্যৎবিদ থমাস ফ্রে।
ঠিক কত বছরের মধ্যে বা কখন থেকে এসব প্রযুক্তি কৃষিকাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেননি ফ্রে। তবে তার বিশ্বাস, আগামী বছরগুলোয় ক্ষেতখামারে আরও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে।
এর মধ্যে ড্রোনের ব্যবহার হয়ে উঠবে প্রায় অনিবার্য। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবট, ডিজিটাল অ্যানালিটিকসসহ নানা উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্মার্ট ফার্মিংয়ের যুগ শুরু হবে। জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ থেকে শুরু করে মাটি ও ফসলের অবস্থা, এমনকি আশপাশের গবাদি পশুর ওপরও নজর রাখবে ড্রোন। ফসলের চারপাশে আগাছা বা পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ছে কি না— তাও ড্রোনে তোলা ছবির মাধ্যমে জানা যাবে। ড্রোন নিয়মিত উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে কৃষক ও খামারের মালিকদের কাছে পাঠাবে।
ফ্রের মতে, ফলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলে কৃষকরা বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক আগেই তা শনাক্ত করতে পারবেন। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমবে। পাশাপাশি ভালো মানের ফসল ও খাদ্যপণ্যের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
ফসলের ক্ষতিকর আগাছা দমনে সে সময় কৃষকরা লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে পরিবেশ সুরক্ষা। বর্তমানে ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় ও আগাছা দমনে রাসায়নিকমিশ্রিত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব রাসায়নিক মাটিতে মিশে অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতি করতে পারে। এমনকি এসব রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশযুক্ত খাদ্য মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর।
এ সমস্যা মোকাবিলায় ড্রোনে বিশেষ অ্যালগরিদম সংযুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে ড্রোন নিজেই ক্ষতিকর পোকামাকড় বা আগাছা শনাক্ত করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে। ফলে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমবে এবং কৃষিকাজ আরও পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে।




