মনে হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অফিসপাড়া, ভেতর বাড়ি বা হাতের মোবাইল ফোনেই শুধু নয়; মানুষের মস্তিষ্কেও চলবে ওয়াই-ফাই! থাকবে পুরো ইন্টারনেট, ডিজিটাল বিশ্ব। ২০৩০ সালের মধ্যেই নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিপুষ্ট হয়ে উঠবে মানুষের মগজ। কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের কাজ দুর্দান্তভাবে করবে মানুষের ব্রেন। চোখ কপালে ওঠার মতো আসছে দুনিয়ার এমন ভবিষ্যতেরই পূর্বাভাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কম্পিউটারবিজ্ঞানী এবং ভবিষ্যৎবিদ রেইমন্ড কার্জওয়াইল। ২০১৫ সালে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক্সপোনেনশিয়াল ফাইন্যান্স সম্মেলনে এ মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তার ২০৩০ সালের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে সে বছরই বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।
কার্জওয়েলের মতে, ভবিষ্যতে মানুষ সরাসরিভাবে যুক্ত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায়। প্রত্যেক ব্যক্তি হয়ে উঠবে অর্ধেক হোমো সেপিয়েন্স, অর্ধেক কম্পিউটার। তিনি বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে আমাদের চিন্তাধারা হবে জৈবিক ও অজৈবিক চিন্তার এক সংমিশ্রণ। আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের একীভূত ও উন্নত করে তুলব। আমার দৃষ্টিতে মানুষ হওয়ার মূল বৈশিষ্ট্যই হলো, আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করব।’ তার বিশ্বাস মানুষের মস্তিষ্কে থাকবে ক্লাউড কম্পিউটিং (ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম্পিউটার বা সার্ভারের সুবিধা)। মানুষের মস্তিষ্ক এই ক্লাউড প্রযুক্তির মতোই উন্নত হবে এবং বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণে সক্ষম হবে। কার্জওয়াইলের মতে, ২০৩০-এর দশকের শেষভাগ বা ২০৪০-এর দশকের শুরুর দিকে মস্তিষ্কের অধিকাংশ কার্যকারিতা বিশেষ করে তথ্যপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও চিন্তাধারণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অজৈবিক হয়ে উঠবে। তবে এ ধরনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্জওয়াইল নিজেও কিছুটা উদ্বিগ্ন। তিনি বলেছেন, ‘প্রযুক্তি দুধারি তলোয়ার... প্রতিটি প্রযুক্তিরই যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে ঝুঁকি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি সাধারণত আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করি, তবে তার মানে এই নয় যে, আমরা অসতর্ক বা উদাসীন হয়ে পড়ব।’






