হতেও পারে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঘুমের ঘোরেও ঘুরে বেড়াবে আত্মা। আধ্যাত্মিক গুরুদের মতোই অনেকটা। তবে উচ্চমার্গীয় এ শক্তির জন্য আবার সাধনসিদ্ধির দরকার হবে না। যেতে হবে না গুরুকুলেও। প্রযুক্তিই মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দেবে সে ক্ষমতা। ঘুমের দেশেও প্রিয়জনের সঙ্গে গল্প চলবে অনায়াসে। জমে উঠবে খোশগল্পের হাসিঠাট্টা। এমনই হবে নাকি ২০৫০ সালের পৃথিবী। নিজের ওয়েবসাইটে সে ভবিষ্যদ্বাণীই করেছেন নেদারল্যান্ডসের ভবিষ্যৎবিদ রিচার্ড ভান হোইজডংক।
টেলিপ্যাথি। আসছে বিশ্বের অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তির মাধ্যমেই একে অন্যের মনের কথা পড়বে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে। স্বপ্ন দেখার মতোই চলবে তাদের মনকথার আদান-প্রদান। ২০২৩ সালেই এ প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের নিউরোপ্রযুক্তি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান আরইএম স্পেস। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন হোইজডংক নিজেই। গবেষক দল তাদের উদ্ভাবনী বিশ্লেষণে এ প্রযুক্তির নাম দিয়েছে ‘লুসিড ড্রিম’। অর্থাৎ স্বপ্ন দেখার সময় মানুষ বুঝতে পারবে কী দেখছে সে। এ সচেতনতার ফলে স্বপ্নের দৃশ্যপট, চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ নিজের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটি সাধারণত ঘুমের র্যাপিড আই মুভমেন্ট পর্যায়ে ঘটে থাকে। স্বপ্নের গল্পের মোড় ঘোরানো, ওড়াউড়ি করা বা যেকোনো কাল্পনিক চরিত্র ইচ্ছামতো পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে নিজের হাতে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এটি মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল কর্টেক্সের অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে ঘটে। ফ্রন্টাল কর্টেক্স হলো, মানুষের উচ্চস্তরের চিন্তাভাবনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র। গবেষকরা বলেছেন, প্রথমজন স্বপ্নে থাকাকাকে যে শব্দগুলো তৈরি করবে, তা তার মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযোগ থাকা যন্ত্রটি ধরে পাঠাবে কম্পিউটারে। সেখান থেকে যাবে বন্ধুর মস্তিষ্কে থাকা যন্ত্রে এবং সে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় বুঝতে পারবে শব্দগুলোর বার্তা। এভাবেই প্রযুক্তি, মস্তিষ্কের নিউরন, কম্পিউটার ইত্যাদি ব্যবহার করে হবে গল্প-আড্ডা-ইয়ার্কি। ঘুমের মধ্যেই।
শুধু স্বপ্ন বা টেলিপ্যাথি নয়। আরও আধুনিক প্রযুক্তি আসবে, যেখানে প্রকাশ না করেও অন্যের কাছে নিজের মনের কথা বলবে মানুষ। সে ব্যবস্থায়ও থাকবে ভবিষ্যৎ দিনের যোগাযোগে। শুধু নিজের ভাষীদের সঙ্গেই নয়, ভিন্ন ভাষার মানুষের সঙ্গেও আলাপ-আলোচনা চলবে সহজেই। তাদের চিন্তা শব্দে পরিবর্তন হওয়ার আগেই তা আদান-প্রদান হবে এ টেলিপ্যাথি দিয়ে। ২০২৪ সালে এ নিয়ে প্রথম গবেষণা চালায় ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক। প্রতিষ্ঠানটি ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেসের আবিষ্কার নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালায় মানবদেহে।




