হয়তো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব মানুষের কাজের ধরনে এনেছে পরিবর্তন। বদলে দিয়েছে কর্মক্ষেত্রের রূপ। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিপ্লব হয়তো আরও এক ধাপ এগিয়ে থাকবে। এটি মানুষের জীবিকা উপার্জন ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও আনবে বড় ধরনের পরিবর্তন। ভবিষ্যতে এমন একসময় আসতে পারে, যখন আয় ও শ্রমের সম্পর্ক বর্তমান সময়ের মতো সরল থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ব্যবসায়ী ইলন মাস্কের বিশ্বাস, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এআই মানুষের মস্তিষ্কক অতিক্রম করে ফেলবে। কয়েক বছর পর বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত বাড়বে। তবে মানুষের শ্রম আগের মতো অপরিহার্য থাকবে না বলেও পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।
চলতি বছরের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউজ ডট কমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার ইলন মাস্ক।
তিনি আরও বলেছেন, ‘আসছে পৃথিবীতে মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে প্রায় ১০০ কোটি রোবট। ভবিষ্যতে অর্থ ও সম্পত্তির কোনো গুরুত্বই থাকবে না। সব মিলিয়ে এটি হবে ব্যাপক আকারের পরিবর্তন।’ তার বক্তব্য, ‘অতীতের তুলনায় ভবিষ্যৎ হবে অনেক, অনেক ভিন্ন। আমরা যে মাত্রার পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, তা বোঝানোর মতো কোনো উপমা বা রূপক নেই।’
বিশ্বের সবাইকে ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক ও উৎসাহী থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ, পৃথিবী এক বিস্ময়কর প্রাচুর্যের যুগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যেখানে বিশ্বের মানুষের সম্মিলিত জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তাকে অতিক্রম করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আর তা হলে আগামী পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বার্ধক্য বা অবসর জীবনের জন্য সঞ্চয় করা অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে বলেও মত দিয়েছেন ইলন মাস্ক। তবে তার এই ভবিষ্যদ্বাণী নতুন নয়। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন তিনি। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যতবিদ অধ্যাপক রকি স্কোপেলেটির মত, কর্মক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ মূলত কোনো শ্রম-সংক্রান্ত সমস্যা নয়; বরং এটি ক্রমেই একটি শাসনব্যবস্থা বা পরিচালনার সমস্যা হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে মানব কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন আসে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানুষের কাজ করার প্রয়োজনীয়তায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।






