Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় কাজললেখা

আপনি কি জানতেন

মধুকবি ঢাকায় এসেছিলেন কেন

মুনির রানা
agamir somoy
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১০
মধুকবি ঢাকায় এসেছিলেন কেন

কবি হিসেবেই মাইকেল মধুসূদন দত্ত পরিচিত। ব্যারিস্টার হিসেবে তার কর্মকাণ্ডের খবর সাধারণ পাঠক ততটা জানেন বলে মনে হয় না। কিন্তু জীবনের শেষভাগে এসে জীবিকার তাগিদে তিনি আইন পেশায় জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেছিলেন প্রবলভাবে।

তার বাবা রাজনারায়ণ দত্ত খ্যাতনামা আইনজীবী ছিলেন। মধুসূদনও আইন পড়তে লন্ডন গিয়েছিলেন। নানা কারণে সেখানে বেশি দিন থাকতে না পেরে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে চলে যান। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অর্থানুকূল্যে একসময়ে লন্ডনের গ্রেজ-ইন থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে ব্যারিস্টার হয়ে ভারতে ফিরে আসেন। কিন্তু কলকাতায় চেম্বার খুলে বসলেও ব্যারিস্টার হিসেবে খুব খ্যাতি অর্জন করতে পারেননি কবি। প্রথমদিকে আয় খুব খারাপও ছিল না, মাসে হাজার দু-এক টাকা পেতেন। কিন্তু অমিতব্যয়ী স্বভাবের কারণে বিপুল দেনা এবং তার বিলাসবহুল জীবনের সঙ্গে সেই আয় সংগতিপূর্ণ ছিল না।

১৮৭২ সালের বেঙ্গল ডাইরেক্টরিতে তার পরিচিতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ব্যারিস্টার এবং তার চেম্বার ঢাকায়। অাগের বছর একই ডাইরেক্টরিতে তাকে পরীক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। অর্থাৎ প্রিভি কাউন্সিলে মামলার যেসব নথিপত্র বাংলায় অনুবাদ করা হতো, সেগুলো দেখে দিতেন তিনি। এটি নির্দিষ্ট বেতনের কোনো চাকরি ছিল না। খুব বেশি টাকাও পেতেন না এ কাজ করে। এদিকে ব্যািরস্টারির আয়ও এত কমে গেল যে, শেষ পর্যন্ত চেম্বার বন্ধ করতে হলো তাকে। যাকে বলে ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। এ সময়েই সংসার খরচ নির্বাহের জন্য কৃষ্ণনগর, বর্ধমান, যশোর, পুরুলিয়ার মতো মফস্বল এলাকায় মামলা লড়তে যাওয়া শুরু করেন তিনি। সেই সুবাদেই ঢাকায় আসা।

কবি ঢাকায় আসেন ১৮৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে। এখানেও ভাগ্যের বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তােক। এসেই ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। ১০ দিন শয্যাশায়ী ছিলেন। বন্ধু গৌর বসাককে চিঠিতে লিখেছেন, I was nearly dead some weeks ago and had to go to Dacca, where I was detained nearly 10 days and got back with much difficulty. চিঠি থেকেই বোঝা যায়, ঢাকায় আসার আগেই তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, যকৃৎ ও প্লীহার রোগে কাতর ছিলেন। কিন্তু জীবিকার তাগিদে ঢাকা যাত্রার ঝুঁকিটা তাকে নিতে হয়েছিল।

যে উদ্দেশ্য নিয়ে কবি ঢাকায় এসেছিলেন, তা মোটেও পূরণ হয়নি। শুধু নির্দিষ্ট েকানো মামলা লড়তে এসেছিলেন এমনটা মনে হয় না। সম্ভবত কলকাতায় অনেক তুখোড় ব্যারিস্টারের ভিড়ে বিশেষ সুবিধা করতে না পেরে ঢাকায় ব্যবসা জমানো যায় কি না, সেটাও দেখতে এসেছিলেন। বেঙ্গল ডাইরেক্টরিতে তার চেম্বার ঢাকায় বলে উল্লেখ করার এটাই কারণ বলে মনে হয়। বলাবাহুল্য, শত আগ্রহ সত্ত্বেও ঢাকায় ব্যারিস্টার হিসেবে তিনি খুব সুবিধা করতে পারেননি। ঢাকায় তখন কালীপ্রসন্ন সেন, আনন্দচন্দ্র রায়ের মতো ডাকসাইটে আইনজীবীরা কাজ করতেন তখন। এ সময় মধুসূদন দত্ত কোনো মামলা পেয়েছেন এমন তথ্য মেলেনি।

ঢাকার আদালতপাড়ায় বিশেষ পাত্তা না পেলেও তার আগমনে শহরের সাহিত্যমোদীদের মধ্যে বেশ সাড়া পড়ে গিয়েছিল। বেশ অায়োজন করে ঢাকার পোগোজ স্কুলে প্রিয় মহাকবিকে সংবর্ধনা দেন তারা। ১৮৭১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘এডুকেশন গেজেট’-এ এসংক্রান্ত রিপোর্ট ছাপা হয়।
রিপোর্টে  সভায় বহুবিয়ে বন্ধ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। সভায় জানানো হয় মনু সংহিতায় বহু বিয়ের পক্ষে মত রয়েছে। এ কথা শুনে কবি খুব দুঃখ পান এবং ক্ষোভের সেঙ্গে বললেন, এ ধরনের শাস্ত্র বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করা উচিত।

পোগোজ স্কুলের সংবর্ধনা সভার বক্তব্য নিয়ে আকর্ষণীয় রিপোর্ট ছাপা হয় অমৃতবাজার পত্রিকায়। ওই সভায় এক বক্তা আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘আপনি ইংরাজ হইয়া গিয়াছেন শুনিয়া আমরা ভারি দুঃখিত হই। কিন্তু আপনার সঙ্গে আলাপ ব্যবহার করিয়া সে ভ্রম গেল।’ মধুসূদন এর জবাবে বললেন, ‘আমার সম্বন্ধে আপনাদের আর যেকোনো ভ্রম হউক, আমি সাহেব হইয়াছি এই ভ্রমটি হওয়া ভারি অন্যায়।... আমি শুদ্ধ বাঙালি নহি, আমি বাঙাল, আমার বাটি যশোহর।’

ঢাকাবাসীর অভ্যর্থনায় আপ্লুত কবি একটি সনেটও লিখে ফেলেন। তাতে ঢাকা ও ঢাকাবাসীর ভূয়সী প্রশংসা করেন, উপমা সহযোগে নিজের শোচনীয় দুরবস্থাও তুলে ধরেন অকুণ্ঠচিত্তে। সব অহংকার বিসর্জন দিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় রাজধানী কলকাতা ছেড়ে তিনি যে ঢাকার মতো একটা মফস্বল এলাকায় মরিয়া হয়ে এসেছেন, সে কথা কবুল করেন কবিতায়।

কিন্তু এত ঐকান্তিক আগ্রহ সত্ত্বেও ঢাকায় থাকতে পারলেন না তিনি। ঢাকার সাহিত্যমোদী নাগরিকদের প্রচণ্ড ভালোবাসা পেলেও আদালতপাড়ায় খুব একটা সাড়া পাননি। এ ছাড়া তার ভগ্নস্বাস্থ্যও তাকে কলকাতায় ফিরে যেতে বাধ্য করে থাকবে। কলকাতায় ফেরার পর বেশি দিন আর কষ্টভোগ করতে হয়নি তাকে। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতার আলীপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান বাংলা সাহিত্যের অসম্ভব প্রতিভাধর এই কবি।

ফুটনোটে একটা বিষয় উল্লেখ করা দরকার। বিভিন্ন জীবনী গ্রন্থে মধুকবির ঢাকায় আসার সালের হিসাব নিয়ে একটু গোলযোগ লক্ষ করা যায়। নগেন্দ্রনাথ সোম ১৮৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মধুসূদন দত্ত আরও একবার ঢাকায় এসেছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন। আবার যোগীন্দ্রনাথ বসুর মতে, তিনি ঢাকায় এসেছিলেন ১৮৭৩ সালের মার্চ মাসে। কবি মধুসূদন ও তার পত্রাবলী গ্রন্থের সম্পাদক ক্ষেত্র গুপ্তও জানাচ্ছেন, কবি একবার ১৮৭১ সালে এবং আরেকবার ১৮৭২ সালে ঢাকায় গিয়েছিলেন। তবে গোলাম মুরশিদ তার আশার ছলনে ভুলি গ্রন্থে বলেছেন, এসব দাবির প্রমাণ নেই।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise