ডেঙ্গু থেকে বাঁচবেন যেভাবে

প্রতীকী ছবি
সকালে হালকা ঠান্ডা বাতাস। দুপুরে আবার তীব্র গরম। সন্ধ্যার পর আবহাওয়ায় একটু স্বস্তি মিললেও চারপাশে জ্বর-সর্দি-কাশির কথা শোনা যাচ্ছে। ঋতু বদলের এই সময়ে শরীরের ওপরও পড়ছে আবহাওয়ার প্রভাব। এর সঙ্গে নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু।
শীত আসতে এখনো কিছুটা সময় আছে। কিন্তু তার আগেই যদি ডেঙ্গু থেকে সাবধান হওয়া যায়, তাহলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ডেঙ্গু ঠেকানোর শুরুটা বাড়ি থেকেই
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
ফুলের টব, টবের নিচের প্লেট, বালতি, ড্রাম, পরিত্যক্ত বোতল, নারকেলের খোসা, পুরনো টায়ার—যেখানে পানি জমতে পারে, সেসব জায়গায় নিয়মিত নজর দিন। সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ির ভেতর ও বাইরে ভালোভাবে দেখে জমে থাকা পানি ফেলে দিন। শুধু পানি ফেলে দিলেই কাজ শেষ নয়। যেসব পাত্রে পানি জমে, সেগুলোও ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। কারণ পাত্রের গায়ে এডিস মশার ডিম লেগে থাকতে পারে।
দিনের মশাকেও অবহেলা নয়
এডিস মশা শুধু রাতেই কামড়ায় না, দিনেরবেলাতেও সক্রিয় থাকে। তাই দিনেরবেলায়ও মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা জরুরি।
বাইরে গেলে শরীর যতটা সম্ভব ঢেকে রাখা, ঘরের দরজা-জানালায় নেট ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশা তাড়ানোর রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশু বা অসুস্থ কেউ দিনেরবেলায় ঘুমালে মশারি ব্যবহার করাও ভালো অভ্যাস।
জ্বর হলেই সতর্ক
এই সময়ে জ্বর হলে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে হয়েছে ধরে নিয়ে বসে থাকা ঠিক নয়। ডেঙ্গুতে সাধারণত জ্বরের সঙ্গে মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও জোড়ায় ব্যথা, বমি বমি ভাব বা শরীরে র্যাশ হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই নিরাপদ। বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনজাতীয় ওষুধ এড়িয়ে চলতে বলা হয়।
ডেঙ্গু ধরা পড়লে রোগীকে মশার কামড় থেকেও দূরে রাখতে হবে। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশা অন্য মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। ঋতু বদলানো আমাদের হাতে নেই। কিন্তু বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, পানি জমতে না দেওয়া আর মশার কামড় এড়িয়ে চলা—এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে বড় সুরক্ষা হয়ে উঠতে পারে।



