ভোজনরসিকদের জন্য ১৫ জাদুকরি গন্তব্য

সংগৃহীত ছবি
ভ্রমণ মানেই কি শুধু নতুন কোনো শহর দেখা? ন্যাশনাল জিওগ্রাফির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে, ভ্রমণের আসল আনন্দ লুকিয়ে থাকে সেখানকার খাবারের গন্ধ, স্বাদের বৈচিত্র্য আর রন্ধনশিল্পের পেছনে থাকা গল্পগুলোয়। বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা এমনই ১৫টি জাদুকরি গন্তব্য খুঁজে বের করেছেন অভিজ্ঞ ভ্রমণ লেখক ও সম্পাদকরা, যেখানে শুধু রসনাবিলাসের টানেই ছুটতে পারেন আপনি। আসুন, ঘুরে দেখি সেই স্বর্গীয় স্বাদ আর ঐতিহ্যের ঠিকানায়:
ক্রিট, গ্রিস
গ্রিসের বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের জলপাই বাগান আর নীল সাগরের হাতছানি যে কাউকে মুগ্ধ করবে। এখানকার খাবারে শুধু স্বাদ নেই, আছে দীর্ঘায়ু হওয়ার গোপন রহস্য। স্টেলিওস ট্রিলিরাকিসের মতো রাঁধুনিদের তৈরি শামুকের স্ট্যু বা স্থানীয় ওলিভ অয়েলে ভাজা মেষশাবকের স্বাদ একবার নিলে মনে হবে, গ্রিক দেবতারাও বোধহয় এমন অমৃতই খেতেন।
কেলোনা, কানাডা
ওকানাগান লেকের স্বচ্ছ জলের ধারে কেলোনা যেন এক ছবি আঁকা শহর। এখানকার আঙুরখেতের মধ্য দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যখন আপনি কোনো ওয়াইনারিতে পৌঁছাবেন, তখন এখানকার চেরি ওয়াইন বা সিডার আপনার ক্লান্তি ধুয়ে মুছে দেবে।
হাওয়াই
হাওয়াইয়ের সাইমিন নুডল স্যুপ শুধু খাবার নয়, এটি দ্বীপের মানুষের ইতিহাসের এক উষ্ণ আলিঙ্গন। প্যালেস সাইমিনের মতো ছোট ছোট দোকানে বসে যখন আপনি গরম বাষ্প ওঠা স্যুপে চুমুক দেবেন, তখন বাইরের পৃথিবীর সব কোলাহল ভুলে যেতে বাধ্য।
বুয়েন মা থুয়াত, ভিয়েতনাম
ভিয়েতনামের সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসের সবুজ পাহাড় আর কফি বাগানের ঘ্রাণ আপনার স্নায়ু শান্ত করে দেবে। এখানকার ‘ওয়ার্ল্ড কফি মিউজিয়াম’ কফি নিয়ে আপনার ধারণাই বদলে দেবে। ভিয়েতনামি কফির সেই ধীরে ধীরে ফোঁটা ফোঁটা পড়ার ছন্দ আপনাকে সময় থামিয়ে দিতে বাধ্য করবে।
চেকিয়া
মধ্য ইউরোপের চেকিয়া এখন নতুন করে সেজেছে। এখানকার ঐতিহাসিক রেস্তোরাঁগুলোয় যখন আপনি ধীরগতিতে রান্না করা মাংস আর স্থানীয় ওয়াইন উপভোগ করবেন, তখন মনে হবে আপনি ইতিহাসের কোনো রাজদরবারে বসে আছেন।
লখনউ, ভারত
‘আদব’ আর ‘তহজিবের’ শহর লখনউ। এখানকার অলিগলি থেকে ভেসে আসা গালৌতি কাবাব আর বিরিয়ানির সুগন্ধ আপনাকে নবাবী যুগে নিয়ে যাবে। লখনউয়ের পুরনো চকে একবার গেলে আপনি নিজের অজান্তেই হারিয়ে যাবেন ঐতিহ্যের স্বাদে।
উত্তর কলম্বিয়া
কার্টাহেনার পাথুরে দেয়ালের মাঝে যখন আপনি ক্যারিবীয় ঢঙে রাঁধা স্যানকোচো স্যুপের স্বাদ নেবেন, তখন আপনার মন নেচে উঠবে স্থানীয় ‘কুম্বিয়া’ ছন্দে। এখানে খাবার মানেই জীবনের উদযাপন।
ট্রেন ভ্রমণ
যাত্রাপথে জানালার বাইরে স্কটল্যান্ডের পাহাড় বা ইতালির উপকূলের দৃশ্য আর পাতে বিশ্বসেরা শেফের হাতের খাবার— এমন অভিজ্ঞতা জীবনে একবার পাওয়া যায়। বেলমন্ডের ট্রেনগুলো যেন একেকটি চলমান পাঁচতারা রেস্তোরাঁ।
দক্ষিণ তাসমানিয়া, অস্ট্রেলিয়া
তাসমানিয়ার আদিবাসী ঐতিহ্যে মোড়ানো সামুদ্রিক খাবার আর স্থানীয় বেরিগুলোর স্বাদ নিতে চাইলে আপনাকে আসতেই হবে এই নীল মহাসাগরীয় উপকূলে। এখানে খাবার মানে সরাসরি মাটির সঙ্গে একাত্ম হওয়া।
সিঙ্গাপুর
সিঙ্গাপুরের বহুসংস্কৃতি যেন ধরা দেয় পেরানাকান খাবারের থালায়। শত বছরের পুরনো রেসিপি আর আধুনিক পরিবেশনায় সাজানো এই খাবারগুলো আপনার জিভে এমন এক স্বাদের জাদুকরি রেশ রেখে যাবে, যা ভোলা কঠিন।
সমারসেট, ইংল্যান্ড
যান্ত্রিক লন্ডন থেকে দূরে সমারসেটের চেডার চিজ আর সাইডার বাগানগুলো আপনাকে নিয়ে যাবে রূপকথার জগতে। এখানকার খামারবাড়িতে বসে দুপুরের খাবার খাওয়ার মধ্যে যে শান্তি আছে, তা অন্য কোথাও নেই।
সোনোরা, মেক্সিকো
আগাভে গাছ থেকে তৈরি এই পানীয়র স্বাদে আছে মরুভূমির রুক্ষতা আর মানুষের ভালোবাসার উষ্ণতা। সোনোরার ছোট ছোট গ্রামে গিয়ে স্থানীয় ডিস্টিলারি ঘুরে দেখা আপনার জীবনের সবচেয়ে সাহসী ভ্রমণগুলোর একটি হতে পারে।
বোজকাদা, তুরস্ক
বিকালের লাল সূর্যাস্ত, হাতে এক গ্লাস স্থানীয় আঙুরের ওয়াইন আর টেবিলে সাজানো সমুদ্রের টাটকা মেজ্জে— বোজকাদায় গেলে আপনার মনে হবে, জীবনটা এর চেয়ে সুন্দর আর হয় না!
মিনিয়াপোলিস, যুক্তরাষ্ট্র
মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় হাঁটলে মনে হবে আপনি পুরো পৃথিবী ঘুরছেন। এখানে সোমালি সাম্বুসা থেকে শুরু করে আদিবাসী বুনো চালের স্বাদের যে মেলবন্ধন, তা আপনাকে এক অন্যরকম বিশ্বনাগরিকের স্বাদ দেবে।
কেপ টাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা
টেবিল মাউন্টেনের পাদদেশে বসে যখন আপনি দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী ‘সোল ফুড’ খাবেন, তখন টের পাবেন কেন এই শহরকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম সেরা গন্তব্য। এখানকার খাবার আপনাকে ঘরে ফেরার অনুভূতি দেবে।
বোনাস টিপস: লন্ডনের ইস্ট এন্ডে গেলে অবশ্যই ‘বেইগেল বেক’-এ লাইন দিয়ে সল্ট বিফ বেইগেল খাওয়ার অভিজ্ঞতা নেবেন। ন্যাশনাল জিওগ্রাফির মতে, আসল ভ্রমণ সেখানেই, যেখানে আপনি অচেনা স্বাদের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন।







