থাইল্যান্ডে মিলল নতুন প্রজাতির লম্বা গলার ডাইনোসর

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি
থাইল্যান্ডে আবিষ্কৃত জীবাশ্ম থেকে বিজ্ঞানীরা নতুন এক প্রজাতির বিশালাকার লম্বা গলার ডাইনোসর শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের মতে, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় ডাইনোসর।
নতুন এই ডাইনোসরের নাম রাখা হয়েছে নাগাটাইটান চাইয়াফুমেনসিস। ‘নাগা’ শব্দটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লোককথার সর্পাকৃতির পৌরাণিক প্রাণীকে নির্দেশ করে, ‘টাইটান’ এসেছে গ্রিক পুরাণের দেবতাদের নাম থেকে, আর ‘চাইয়াফুমেনসিস’ অর্থ থাইল্যান্ডের চাইয়াফুম প্রদেশ থেকে পাওয়া।
বিশাল আকৃতির এই ডাইনোসরটির ওজন ছিল প্রায় ২৭ টন, যা প্রায় নয়টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতির সমান। দৈর্ঘ্যে এটি ছিল প্রায় ২৭ মিটার বা ৮৮- ফুট অর্থাৎ বিখ্যাত ডিপ্লোডোকাস ডাইনোসরের চেয়েও দীর্ঘ। এটি ছিল সৌরোপড পরিবারের সদস্য; এই পরিবারভুক্ত ডাইনোসরগুলো দীর্ঘ গলা ও তৃণভোজী স্বভাবের জন্য পরিচিত।
নাগাটাইটান পৃথিবীতে বিচরণ করত প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে। অর্থাৎ ভয়ংকর শিকারি টাইরানোসরাস রেক্সের আবির্ভাবের প্রায় ৪০ মিলিয়ন বছর আগে। আকারেও এটি মাংসাশী ডায়নোসর টি-রেক্সের প্রায় দ্বিগুণ ছিল।
যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডের গবেষকদের একটি দল প্রায় এক দশক আগে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের একটি পুকুরের পাশে পাওয়া জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করেন। গবেষণাটি বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্টিফিক রিপোর্টস-এ।
গবেষণার প্রধান লেখক ছিলেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের পিএইচডি শিক্ষার্থী থিতিউত সেথাপানিচসাকুল। তিনি জানান, গবেষকরা এই ডাইনোসরকে ‘থাইল্যান্ডের শেষ টাইটান’ বলে উল্লেখ করেছেন।
কারণ, জীবাশ্মগুলো দেশের সবচেয়ে নবীন ডাইনোসর-বহনকারী শিলা স্তর থেকে পাওয়া গেছে।
তার ভাষায়, ডাইনোসর যুগের শেষের দিকে গঠিত অপেক্ষাকৃত নবীন শিলাস্তরে ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়ার সম্ভাবনা কম। সে সময় অঞ্চলটি অগভীর সমুদ্রে পরিণত হচ্ছিল।
ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি হয়তো সবচেয়ে সাম্প্রতিক বা শেষ দিককার বিশাল সৌরোপড ডাইনোসর।
গবেষক সেথাপানিচসাকুল নিজেকে ‘ডাইনোসরপ্রেমী শিশু’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে তিনি শৈশবের একটি স্বপ্ন পূরণ করেছেন- নিজ হাতে একটি ডাইনোসরের নামকরণ করা।
এটি থাইল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণ হওয়া ১৪তম ডাইনোসর প্রজাতি।




