সহজ ভাষায়
এক্সোপ্ল্যানেট

আমাদের সৌরজগতের বাইরে অন্য কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তনকারী গ্রহগুলোকে এক্সোপ্ল্যানেট বলা হয়। সহজ কথায়, মহাশূন্যে আমাদের সূর্যের মতো যে কোটি কোটি নক্ষত্র রয়েছে, তাদের নিজস্ব গ্রহ ব্যবস্থাই হলো এক্সোপ্ল্যানেটের জগৎ।
১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরে এমন গ্রহের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। এরপর কেপলার ও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মতো আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে বিজ্ঞানীরা হাজার হাজার এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করেছেন। এদের আকার, গঠন ও বৈশিষ্ট্যে রয়েছে বিশাল বৈচিত্র্য। কিছু এক্সোপ্ল্যানেট আমাদের পৃথিবীর মতো পাথুরে ও কঠিন পৃষ্ঠের, আবার কিছু গ্রহ বৃহস্পতির মতো বিশাল আকারের গ্যাসীয় দানব।
বিজ্ঞানীদের কাছে এক্সোপ্ল্যানেট গবেষণার মূল আকর্ষণ হলো ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব বা দ্বিতীয় কোনো পৃথিবীর সন্ধান। প্রতিটি নক্ষত্রের চারপাশে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে এমন একটি অঞ্চল থাকে, যাকে বলা হয় ‘গোল্ডিলকস জোন’ বা বাসযোগ্য অঞ্চল। এ অঞ্চলে তাপমাত্রা এমন অনুকূল থাকে, যেখানে পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে, যা জীবনের বিকাশের জন্য অপরিহার্য। কোনো পাথুরে গ্রহের সন্ধান মিললে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা প্রবল হয়।
নক্ষত্রের প্রবল আলোর তুলনায় গ্রহগুলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও অনুজ্জ্বল হওয়ায় সরাসরি এক্সোপ্ল্যানেট দেখা কঠিন। তাই বিজ্ঞানীরা বিশেষ কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ‘ট্রানজিট মেথড’ (নক্ষত্রের সামনে দিয়ে গ্রহ পার হওয়ার সময় তার আলো সামান্য কমে যাওয়া পর্যবেক্ষণ করা) এবং ‘রেডিয়াল ভেলোসিটি মেথড’।
মহাশূন্যে আমাদের প্রকৃত অবস্থান এবং মহাবিশ্বে আমরা একা কি না— এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এক্সোপ্ল্যানেট নিয়ে গবেষণা আজ জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম রোমাঞ্চকর এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা।






