কল্পকাহিনিতে চাঁদে অভিযান

মানুষের চাঁদের মাািটতে পা রাখার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল অনেক আগে, সাহিত্যে। ১৮৬৫ সালে জুল ভার্নের কলমে একটি বিশাল কামানের গোলা পৃথিবী থেকে চাঁদের দিকে ছুটে যায়। আর ১৯৫৩-৫৪ সালে হার্জের তুলিতে ভর করে টিনটিন সিরিজে একটি অত্যাধুনিক মহাকাশযান চাঁদের মাটিতে নামে।
জুল ভার্নের ডি ‘ফ্রম দ্য আর্থ টু দ্য মুন’ উপন্যাসে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ইমপে বার্বিকেন প্রস্তাব দেন— একটি বিশাল কামান তৈরি করে চাঁদে মানুষ পাঠানোর। কামানের নাম ‘কলম্বিয়াড’। এর ব্যাস ৯ ফুট, দৈর্ঘ্য ৯০০ ফুটেরও বেশি। ফ্লোরিডার টাম্পা শহরের কাছে এটি তৈরি হয়।
তিনজন যাত্রী বার্বিকেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যাপ্টেন নিকল ও ফরাসি কবি মিশেল আরদান— একটি অ্যালুমিনিয়ামের প্রজেক্টাইলে চেপে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
উপন্যাসে ফ্লোরিডাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ এটি নিরক্ষীয় অঞ্চলের কাছাকাছি, যা আজকের কেনেডি স্পেস সেন্টারের অবস্থানের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়। ভার্নের কল্পনায় কামানের গোলা ছিল প্রজেক্টাইল, রকেট নয়। । কিন্তু ১৯ শতাব্দীর বিজ্ঞানের সীমায় ভার্ন যতটা সম্ভব নির্ভুল ছিলেন। এ গল্পের পরের সিক্যুয়েল ‘অ্যারাউন্ড দ্য মুন’ প্রকাশ হয় ১৮৭০ সালে। যাত্রীরা চাঁদের চারপাশে ঘুরে পৃথিবীতে ফেরে।
১৯ শতাব্দীর শেষে মহাকাশ সাহিত্য আরও বৈচিত্র্যময় হয়। এইচ জি ওয়েলসের ১৯০১ সালে প্রকাশিত ‘দ্য ফার্স্ট ম্যান ইন দ্য মুন’ ভার্নের কামানকে ছাড়িয়ে যায়।
দুই ইংরেজ ব্যবসায়ী বেডফোর্ড আর বিজ্ঞানী কেভর— ‘ক্যাভোরাইট’ নামের এক অভিকর্ষ-বিরোধী ধাতু আবিষ্কার করে গোলাকার মহাকাশযান তৈরি করেন। চাঁদে নেমে তারা আবিষ্কার করেন সেলিনাইট নামের পোকাসদৃশ প্রাণীদের সভ্যতা।
বেলজিয়ান কার্টুনিস্ট হার্জ (জর্জ রেমি) তার টিনটিন সিরিজে দুটি বই প্রকাশ করেন চন্দ্রাভিযান নিয়ে।
এর মধ্যে ‘ডেস্টিনেশন মুন’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে এবং পরের বছর প্রকাশ পায় ‘এক্সপ্লোরার্স অন দ্য মুন’। এখানে কামান নয়, একটি লাল-সাদা চেকার্ড রকেট। নাম এক্স-এফএলআর৬। ফিকশনাল দেশ সিলডাভিয়ায় প্রফেসর ক্যালকুলাস এটি তৈরি করেন।
যাত্রীরা ছিলেন টিনটিন, ক্যাপ্টেন হ্যাডক, স্নোয়ি ও থমসন-থমসন ভাইয়েরা। তারাই চাঁদে নামেন।




