টিপস
সন্তান বুলিংয়ের শিকার হলে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুর জ্ঞান অর্জন, ব্যক্তিত্ব গঠন ও মানসিক বিকাশের জায়গা। কিন্তু সেখানেই কোনো শিক্ষার্থী শারীরিক, মানসিক কিংবা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে তা পরিবার, প্রতিষ্ঠান এমনকি সমাজের জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়। তাই নির্যাতনের ঘটনা গোপন না করে সচেতনতা ও আইনগত পদক্ষেপ— দুটিই জরুরি।
প্রথমেই অভিভাবকদের উচিত সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাকে বিশ্বাস করা। ঘটনার তারিখ, সময়, স্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। মেসেজ, ছবি, ভিডিও, অডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রমাণ থাকলে তা মুছে না ফেলে সংরক্ষণ করা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা নিতে হবে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১৪ মে ২০০৯ সালের ঐতিহাসিক রায়। ওই রায়ে কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে শুধু আইন ও অভিযোগ কমিটি থাকলেই হবে না; প্রয়োজন সচেতনতা ও কার্যকর প্রয়োগ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্যাতন, যৌন হয়রানি, বুলিং ও সাইবার হয়রানি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
ফিনল্যান্ডের টার্কু ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তৈরি ‘কিভা’ একটি অ্যান্টি-বুলিং কর্মসূচি, যা ২০টির বেশি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য, বুলিংয়ের সময় দর্শক বা সহপাঠীদের সচেতন করা, যাতে তারা উৎপীড়ককে সমর্থন না করে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ায় এবং বুলিং প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশেও এটি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
শিক্ষানবিশ আইনজীবী, জেলা জজ আদালত



