প্রিটোরিয়া: এক বাবার নামে শহর

আন্দ্রিস প্রিটোরিয়াস
একটি নতুন শহর গড়ে তুললেন ছেলে। রাস্তা বানালেন, প্রশাসনের কেন্দ্র স্থাপন করলেন, ভবিষ্যতের রাজধানীর স্বপ্ন দেখলেন। তারপর সেই শহরের নাম দিলেন নিজের নামে নয়, বাবার নামে। লিখেছেন তুষার ইশতিয়াক
পৃথিবীর বড় শহরগুলোর ইতিহাসে এমন ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রশাসনিক রাজধানী প্রিটোরিয়ার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বাবার নাম।
১৮৫৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরে নতুন একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন মার্থিনাস ওয়েসেল প্রিটোরিয়াস। তিনি ছিলেন ভুরট্রেকার আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। কিন্তু শহরটির নাম তিনি রাখলেন তার বাবা আন্দ্রিস প্রিটোরিয়াসের স্মরণে— প্রিটোরিয়া। আজও তাই শহরটির নাম উচ্চারিত হলে এক বাবার স্মৃতি জড়িয়ে থাকে তাতে।
আন্দ্রিস প্রিটোরিয়াস ছিলেন উনিশ শতকের দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব। ১৮৩৮ সালের ব্লাড রিভারের যুদ্ধে জুলু বাহিনীর বিরুদ্ধে ভুরট্রেকারদের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি খ্যাতি লাভ করেন। পরে ট্রান্সভালের স্বাধীনতা স্বীকৃতির পথ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার মৃত্যুর মাত্র দুই বছর পর ছেলে মার্থিনাস নতুন শহর প্রতিষ্ঠা করে বাবার নাম অমর করে দেন।
প্রিটোরিয়া দ্রুতই গুরুত্ব পেতে শুরু করে। ১৮৬০ সালে এটি দক্ষিণ আফ্রিকান রিপাবলিক বা ট্রান্সভালের রাজধানী হয়। পরে ১৯১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ইউনিয়ন গঠিত হলে শহরটি প্রশাসনিক রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে। আজও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং বহু সরকারি দপ্তর এখানেই অবস্থিত।
তবে প্রিটোরিয়া শুধু রাজনীতির শহর নয়; জাকারান্ডা গাছে ঘেরা অসংখ্য রাস্তার জন্য একে বলা হয় ‘জাকারান্ডা সিটি’। বসন্তকালে বেগুনি ফুলে ঢেকে যায় শহরের বড় অংশ। ফলে ইতিহাস আর সৌন্দর্য— দুটোই একসঙ্গে বহন করে এই নগরী।
প্রিটোরিয়া তাই এক পুত্রের পক্ষ থেকে তার বাবার প্রতি শ্রদ্ধার স্মারক। পৃথিবীর অনেক শহরের নাম রাজা, সেনাপতি বা শাসকের নামে রাখা হয়েছে। কিন্তু খুব কম শহরই আছে, যার নামের পেছনে লুকিয়ে আছে ছেলের এমন ব্যক্তিগত ভালোবাসা আর স্মৃতির গল্প।




