লাউয়াছড়ায় বৃষ্টি

বৃষ্টিতে অরণ্য অভিযান। ছবি: তৌহিদুল আজম মিশুক
পরদিন ভাড়া করা
জিপ গাড়িতে চড়ে বেরিয়ে পড়লাম লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের উদ্দেশে। বনের সীমানায় পৌঁছে
জিপ থেকে নামতেই বিপদ টের পেলাম। বৃষ্টি শুরু হয়েছে অথচ ছাতা সঙ্গে আনিনি। জাতীয় উদ্যানে
ঘোরার জন্য গাইড ঠিক করে ফেললাম। তার নাম হাশেম। একটা চায়ের দোকান থেকে আমাদের জন্য
বড় ছাতা ভাড়া করে নিয়ে এলো হাশেম। জুতা জোড়া হাতে নিয়ে খালি পায়ে ঢুকে পড়লাম বনে।
পিচ্ছিল রাস্তা ধরে এগিয়ে চললাম চারজন। গাছের পাতায় বৃষ্টির শব্দ মন ভরিয়ে দিল।
একটু পর রেললাইন পার হলাম। এটিই সেই বিখ্যাত রেলক্রসিং, যেখানে অস্কারজয়ী মুভি ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’ এবং হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ মুভির শুটিং হয়েছিল।
পিচ্ছিল রাস্তায় পিছলে পড়লাম বার দুয়েক। বৃষ্টির কারণে বনের মাঝের ছড়ার পানি খলবলিয়ে ছুটছে
বৃষ্টি মাথায় নিয়েই ছবি তুললাম। আমাদের লক্ষ্য খাসিয়াপল্লী। একটু পরেই রাস্তা ভাগ হয়ে গেল। আমরা গাইডের দেখানো পথে চলতে লাগলাম। পিচ্ছিল রাস্তায় পিছলে পড়লাম বার দুয়েক। বৃষ্টির কারণে বনের মাঝের ছড়ার পানি খলবলিয়ে ছুটছে। সেটা পেরোলাম। আমাদের গাইড একবার আমাদের ইশারা করে থামাল। দূরে রাস্তার ওপর সাপ সরে গেল সরসর করে। আবার চলতে শুরু করলাম। বৃষ্টি পতনের বেগ বেড়েছে।
একটু পরেই পিচ্ছিল পথে ধাপে ধাপে উঁচুতে উঠতে শুরু করলাম। তারপরই পৌঁছে গেলাম খাসিয়াপল্লীতে। চমৎকার ফুলের বাগান আছে চোখের সামনেই। একটা কুঁড়েঘরে বিস্কুট চানাচুর চিপস ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে। সেখান থেকে পানি কিনে খেলাম। প্রায় নির্জন পেলাম খাসিয়াপল্লী। বেশিরভাগ পুরুষ কাজের খোঁজে শহরের উদ্দেশে বেরিয়ে গেছে। অবাক হয়ে ভাবলাম, ওরা গেছে শহরে আর আমরা এসেছি শহর থেকে ওদের দেখতে!
যে পথে গিয়েছিলাম সে পথেই আবার ফিরে এলাম। ছড়ায় পানি বেড়েছে। তাই অনেকটা পথ ঘুরে আসতে হলো।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গেটে অনেক চা-কফির দোকান। সেখানে দাঁড়িয়ে ভিজে যাওয়া মাথা ভালো করে মুছলাম। হঠাৎ দীপ চেঁচিয়ে উঠল, বাবা তোমার পায়ে ওটা কী?
অবাক হয়ে দেখলাম একটি জোঁক পায়ের সঙ্গে লেপ্টে আছে। রক্ত খেয়ে ঢোল হয়েছে।
সেটা ছাড়ানোর পর দেখি পায়ের আঙুলের ফাঁক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে! ওমা! দুই পায়ের আঙুলের ফাঁকে ছোট ছোট দুটি জোঁক ঢুকে আরাম করে রক্ত খাচ্ছে। আর এভাবেই শেষ হলো বর্ষায় আমার অরণ্যভ্রমণ।




