মুখের ঘা
অধ্যাপক ডা. নাজমুল হাসান চৌধুরী

মুখের ঘা বা আলসারের প্রতিকার বিষয়ে জানাচ্ছেন মার্কস মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজমুল হাসান চৌধুরী
মুখের ঘা কেন হয়
- ছোট বাচ্চাদের মুখের ঘায়ের পেছনে দায়ী হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের কারণে হওয়া ইনফেকশন বা হার্পিটিক অ্যাটাক যা কিনা “কোল্ড শোর” নামেও পরিচিত। এ ছাড়া হ্যান্ড, ফুট ও মাউথ ডিজিজের কারণেও ঘা হতে পারে। পাশাপাশি মুখের ভেতর ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের সংক্রমণ হলে শিশুদের মুখে ঘা দেখা দেয়।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কম থাকলে খুব সহজেই মুখের ঘায়ে আক্রান্ত হতে পারে।
- ধারালো দাঁত, কৃত্রিম দাঁত থাকলে সেটার ঘষা বা খোঁচা লেগে মুখের ভেতরের নরম চামড়া কেটে গিয়ে মুখের ঘায়ের সৃষ্টি হয়।
- ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা রিঅ্যাকশনের কারণেও হুট করে মুখে ঘা হতে পারে।
- অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে মুখের ঘা হতে পারে। এ ছাড়া যারা নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন এবং অতিরিক্ত ধূমপানও মুখের ঘায়ের অন্যতম কারণ।
- অতিরিক্ত ঝাল, মসলাযুক্ত ও অ্যাসিডিক খাবার খাওয়ার অভ্যাস মুখে ক্ষত তৈরি করে। যাদের পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হয় বা গ্যাস্ট্রিকের তীব্র সমস্যা রয়েছে, তাদের মুখেও প্রায়ই ঘা লেগে থাকে।
ঘরেই মুখের ঘায়ের যত্ন ও সমাধান
- মুখের ঘায়ের সবচেয়ে সহজ এবং উপকারি ঘরোয়া চিকিৎসা হলো সামান্য গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করা। এটি মুখের ভেতরের জীবাণু ধ্বংস করতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বেনজিডামিন হাইড্রোক্লোরাইড যুক্ত মাউথওয়াশ দিয়ে কুলকুচি করলে ঘায়ের অস্বস্তি ও ব্যথা থেকে দ্রুত উপশম পাওয়া যায়।
- এ সময় অতিরিক্ত ঝাল, টক এবং অ্যাসিডিক খাবার পুরোপুরি ছাড়তে হবে। ধূমপান এবং অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস থাকলে তা অবশ্যই বর্জন করা উচিত।
- ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে। পাশাপাশি আয়রন জাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।
- অনেকের ব্রাশ করার ভুল অভ্যাসের কারণে মুখে ঘা হয়। তিন মাসের বেশি সময় ধরে একটি ব্রাশ ব্যবহার করা ঠিক নয়। ভালো মানের নরম টুথব্রাশ ব্যবহার করুন এবং খুব সাবধানে আলতোভাবে ব্রাশ করতে হবে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
সাধারণত এ ধরনের ঘা এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তবে যদি কোনো ঘা একটানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মুখে থেকে যায় এবং নিজে নিজে ঠিক না হয়, তবে ঘরে বসে না থেকে অবশ্যই একজন ডেন্টিস্ট বা এমবিবিএস চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।




