ভাঙা পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন
- স্বল্প আয়ে ভালোই চলছিল ওসমান গনির। দুর্ঘটনায় এলোমেলো হয়ে গেল সব। তার জীবনের গল্প শোনাচ্ছেন আখলাকুজ্জামান অনিক

সেদিনও ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠেছিলেন ওসমান গনি। স্ত্রীর হাতের চা খেয়েছিলেন। ছেলের মাথায় বুলিয়ে দিয়েছিলেন আদুরে পরশ। তারপর বেরিয়ে পড়েছিলেন কাজে। দিনটি ছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। গন্তব্য নারায়ণগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইল। ড্রেজার কোম্পানির স্টাফ হিসেবে কাজ করতেন তিনি। নদীর পানির ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে দেশের এ জেলা থেকে ও জেলায় ছুটে বেড়ানোই ছিল তার জীবন। পরিবারে সচ্ছলতা না থাকলেও ছিল দৃঢ় মনোবল।
দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছিল। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা বাস টার্মিনালের একটু আগে পৌঁছতেই হঠাৎ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি। মাত্র ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড চেতন ছিল তার। তারপর সব ফাঁকা! ফায়ার সার্ভিসের লোকজন যখন ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে বের করে আনল, ওসমানের শরীর তখন ক্ষতবিক্ষত। টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা, দুই ব্যাগ রক্ত। পরিবার ছুটে এলো। চিকিৎসকরা জানালেন, কালবিলম্ব না করে নিয়ে যেতে হবে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে, যেটি পঙ্গু হাসপাতাল নামেই বেশি পরিচিত।
অস্ত্রোপচারের আগে রক্ত পরীক্ষায় এলো নতুন দুঃসংবাদ; তার শরীরে বাসা বেঁধেছে হেপাটাইটিস-সি
সে রাতেই ঢাকায় পৌঁছানো। সে রাতেই প্রথম অস্ত্রোপচার। পায়ে ভাঙন ধরেছিল ছয় জায়গায়। হাড় বেরিয়ে এসেছিল ত্বকের বাইরে। হাঁটুর প্যাটেলা সরে গিয়েছিল। বাম হাতের অ্যাক্রোমিওক্ল্যাভিকুলার (এসি) জয়েন্ট বিচ্ছিন্ন। তারপর তিন মাসে পাঁচটি অস্ত্রোপচার। নিতে হয়েছে ১৮ ব্যাগ রক্ত।
তিন মাস পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান ওসমান। দুই মাস পর আবার ডাক আসে হাসপাতালে। আবারও অস্ত্রোপচার। পায়ের চার ইঞ্চি হাড়ই কেটে ফেলতে হলো এবার। এই অস্ত্রোপচারের আগে রক্ত পরীক্ষায় এলো নতুন দুঃসংবাদ; তার শরীরে বাসা বেঁধেছে হেপাটাইটিস-সি। এই যে এত এত ব্যাগ রক্ত গ্রহণ করতে হয়েছিল তাকে, সেগুলোর মধ্যে কোনো একটিতে ছিল এই ভাইরাস। তাতে লিভার সিরোসিস বা ক্যানসারের শঙ্কা। চিকিৎসক জানালেন, দ্রুত চিকিৎসা জরুরি। প্রথমে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রয়োজন ১৫ হাজার টাকা। তারপর প্রতিদিন এক হাজার টাকার ওষুধ; চলবে তিন মাস। খরচ পড়বে প্রায় এক লাখ টাকা।
ওসমান নির্বাক হয়ে শুধু শুনলেন। এত টাকা জোগানো তার পক্ষে অকল্পনীয়ও। তারপর পেরিয়ে গেছে দুই বছরেরও বেশি সময়। জীবন চলছে জীবনের গতিতে; কিন্তু তার পা আজও নিশ্চল। হাঁটুর নিচে বসানো আছে পাঁচটি ধাতুর রিং। ঊরুর ভেতরে প্লেটে গাঁথা নয়টি স্ক্রু। পায়ের দৈর্ঘ্য এখনো দুই ইঞ্চি ছোট। হাঁটু জোড়া লাগেনি পুরোপুরি। প্রতিদিন ওষুধ প্রয়োজন। মাঝেমধ্যে ক্ষতে ঘা জমে, সংক্রমণ হয়। তখন প্রয়োজন পড়ে আরও দামি ওষুধের। আর হেপাটাইটিস-সির চিকিৎসা তো এখন পর্যন্ত শুরুই করতে পারেননি।
শৈশবেই মা-বাবাকে হারিয়েছেন ওসমান। ভাই-বোনেরা যে যার সংসারে ব্যস্ত। অবশ্য মাঝেমধ্যে সাধ্যমতো সাহায্য করেন তারা। কিন্তু তাও কতটুকু? একমাত্র আয়ের উৎস এখন তার স্ত্রী। গ্রামের ঘরে ঘরে টিউশনি করেন। মাসে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আসে। এই টাকায় তিনজনের খাওয়া-দাওয়া, নবম শ্রেণিপড়ুয়া সন্তানের খরচ, ওসমানের ওষুধ— সব মিলিয়ে তার হিসাব মেলে না। তবু তিনি ভেঙে পড়েননি। এখনো স্বপ্ন েদখেন একদিন সব দুর্যোগ সামলে ওঠার। কিন্তু সেজন্য তো আগে সুস্থ হওয়া চাই। তাই তিনি সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন সবার কাছে।
ওসমান গনিকে সাহায্য পাঠানোর উপায়
Feroza Akter
হিসাব নং- 3616010009725 (Savings Account)
রাউটিং নং-185691097
রূপালী ব্যাংক পিএলসি
নাটোর করপোরেট ব্রাঞ্চ, নাটোর
বিকাশ নাম্বার: 0198-0464101
নগদ নাম্বার: 01738-513402







