বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানকে আধুনিক দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি’ পড়ানো ও দীর্ঘদিন এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে আমি মনে করি, এই বিষয়কে শুধু শিক্ষকতা বা গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি পড়ার পর কর্মজীবন নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন। অথচ একটু বিস্তৃতভাবে ভাবলে দেখা যায়, সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে ব্যাংকিং, করপোরেট ক্ষেত্র, গবেষণা ও প্রশাসন— বিভিন্ন পেশায় এই বিষয়ের শিক্ষার্থীদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিশ্বসভ্যতা, প্রশাসন, নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে যে জ্ঞান এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা অর্জন করেন, তা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কাজে আসে। তবে শুধু অ্যাকাডেমিক জ্ঞান দিয়ে বর্তমান চাকরির বাজারে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা বিশ্লেষণ এবং বাংলা ও ইংরেজিতে কার্যকর যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। করপোরেট বা ব্যাংক খাতে যেতে চাইলে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও যোগাযোগ সক্ষমতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আবার সরকারি চাকরির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নিয়মিত পড়াশোনা, সাধারণ জ্ঞান, ইংরেজি, গণিত ও যুক্তিবোধের চর্চা প্রয়োজন।
আমি সবসময় মনে করি, ‘ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি’ শুধু অতীত জানার বিষয় নয়; এটি মানবসভ্যতার বিকাশ, পরিবর্তন ও ধারাবাহিকতা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজন নিজের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানকে আধুনিক দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা এবং নিজের জন্য উপযুক্ত ক্যারিয়ারের পথটি সচেতনভাবে বেছে নেওয়া।
লেখক: উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



