দুটি অনন্য সংগ্রহশালা
- কলেজে আছে প্রাণিবিদ্যা জাদুঘর ও বোটানিক্যাল গার্ডেন যেখানে হাতে-কলমে পাঠ দেওয়া হয়

এমসি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা হাতে-কলমে ব্যবহারিক ক্লাস করছেন (বামে), তাদের প্রাণিবিদ্যা জাদুঘর
এমসি কলেজের প্রাণিবিদ্যা জাদুঘর ও বোটানিক্যাল গার্ডেন দীর্ঘদিন ধরে জীববিজ্ঞান শিক্ষাকে শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করে আসছে। এখানে সংরক্ষিত প্রাণীর নমুনা ও কঙ্কাল এবং বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবিষয়কে আরও সহজ, স্পষ্ট ও কার্যকরভাবে অনুধাবনে সহায়তা করছে।
শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। প্রাণিবিদ্যা জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে বিভিন্ন প্রাণীর নমুনা, কঙ্কাল ও শিক্ষণ উপকরণ, যেগুলো শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবিষয়কে বাস্তবভাবে বুঝতে সহায়তা করছে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফরোজা সুলতানা বলেন, ‘বইয়ে আমরা যেসব প্রাণীর গঠন ও বৈশিষ্ট্য পড়ি, জাদুঘরে সেগুলো সরাসরি দেখার সুযোগ পাই। এতে বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পারি এবং পড়াশোনার আগ্রহও বাড়ে।’ একই বিভাগের শিক্ষার্থী শতরূপা দাস বলেন, ‘জাদুঘরে এসে আমরা প্রকৃত নমুনা দেখে শিখতে পারি, যা ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’
বইয়ে আমরা যেসব প্রাণীর গঠন ও বৈশিষ্ট্য পড়ি, জাদুঘরে সেগুলো সরাসরি দেখার সুযোগ পাই। এতে বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পারি
কলেজের বোটানিক্যাল গার্ডেনে রয়েছে নানা প্রজাতির গাছপালা, ফুল, ফল ও ঔষধি উদ্ভিদ। এই গার্ডেন শিক্ষার্থীদের উদ্ভিদবৈচিত্র্য সম্পর্কে সরাসরি ধারণা দিচ্ছে এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশগত সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করছে।
এ বিষয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক বিজন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো। প্রাণিবিদ্যা জাদুঘর ও বোটানিক্যাল গার্ডেন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থীরা এখানে সরাসরি নমুনা ও উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিষয়গুলো গভীরভাবে বুঝতে পারে। এ দুটি শিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম আরও টেকসইভাবে পরিচালনার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও পর্যাপ্ত বাজেট প্রয়োজন। যথাযথ সহায়তা পেলে এগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে আরও বিকশিত হবে।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই জাদুঘর ও বোটানিক্যাল গার্ডেন শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়; বরং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে পরিচর্যা ও বাজেট সংকটের মতো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এর কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।




