বিউটি
মুখের ক্যানভাসে প্রিয় দল

এই বিশ্বকাপে কারও কারও মুখ হয়ে উঠবে প্রিয় দলের ক্যানভাস। তাদের জন্য রূপবিশেষজ্ঞ নিশাত আদনান তারিকের পরামর্শ নিয়ে মেকওভারের নানা দিক ঘিরে লিখেছেন প্রিয়াঞ্জলি রুহি
বিশ্বকাপের উন্মাদনার সবচেয়ে রঙিন প্রকাশ দেখা যায় সাজে। জার্সির বাইরে মুখও হয়ে ওঠে প্রিয় দলের ক্যানভাস। কেউ গালে আঁকেন আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা পতাকা, কেউ চোখের কোণে ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ স্ট্রাইপ। কারও পুরো মুখে শোভা পায় ফুটবল মোটিফের আলপনা, আবার কেউ শুধু ছোট্ট একটি রঙিন টিপে বুঝিয়ে দেন তার সমর্থনের গল্প। কেননা, বিশ্বকাপের সাজ ফ্যাশনের সঙ্গে আবেগ প্রকাশেরও একটি মাধ্যম। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ‘ম্যাচ ডে লুক’ এখন আলাদা ট্রেন্ড। ক্যাফেতে খেলা দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে রুফটপ গ্যাদারিং, বিশ্ববিদ্যালয়ের আড্ডা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার ছবি— সবখানেই ফুটবল-থিমড মেকওভার যোগ করে বাড়তি উচ্ছ্বাস। এ সাজ শুধু রঙ মেখে নেওয়ার বিষয় নয়; একটু পরিকল্পনা, সঠিক প্রোডাক্ট আর কিছু সতর্কতা জানলে সহজে ঘরে করা সম্ভব সুন্দর ও নিরাপদ ফেস আর্ট।
সাজের শুরুটা হওয়া উচিত পরিষ্কার ত্বক দিয়ে। মুখ ভালোভাবে ধুয়ে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এরপর একটি প্রাইমার ও ওয়াটারবেজড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে ফেস পেইন্ট ও মেকআপ দীর্ঘসময় ঠিক থাকবে। কারণ, বিশ্বকাপ মানেই লম্বা সময় ধরে বাইরে থাকা, চিৎকার, উত্তেজনা, গরম— সব মিলিয়ে মেকআপ দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি। ফেস আর্টের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হলো স্কিন-ফ্রেন্ডলি ওয়াটারবেজড ফেস পেইন্ট। অনেকেই ভুল করে পোস্টার কালার বা অ্যাক্রিলিক রঙ ব্যবহার করেন, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে এগুলো অ্যালার্জি, র্যাশ বা জ্বালাপোড়া বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে। তাই ত্বকে ব্যবহারের জন্য তৈরি প্রোডাক্টই বেছে নেওয়া মঙ্গল।
ডিজাইন করার জন্য ছোট ব্রাশ, মেকআপ স্পঞ্জ ও কটন বাড খুব কাজে দেয়। নতুনরা চাইলে ছোট নকশা দিয়ে শুরু করতে পারেন। যেমন গালে ছোট পতাকা, চোখের পাশে দলের রঙের স্ট্রাইপ, কপালে ফুটবলের ছোট মোটিফ, ঠোঁটের নিচে টিম কালারের ডট। আবার যারা একটু নিরীক্ষা করতে ভালোবাসেন, তারা পুরো মুখে আলপনা বা হাফ-ফেস ডিজাইনও করতে পারেন।
এখানে বাঙালি নান্দনিকতাও যোগ করা সম্ভব। শুধু বিদেশি পতাকা নয়, টিমের রঙের সঙ্গে আলপনা, পটচিত্র বা লোকশিল্পের মোটিফ মিশিয়ে নিলে লুক আরও ইউনিক হয়ে উঠবে। যেমন আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙে শঙ্খের নকশা কিংবা ব্রাজিলের সবুজ-হলুদে ঢেউয়ের আলপনা— এ ফিউশন এখন পছন্দের শীর্ষে।
ফেস আর্টের জন্য ছোট ব্রাশ, মেকআপ স্পঞ্জ এবং কটন বাড খুব কাজে দেয়। নতুনরা চাইলে পুরো মুখ না এঁকে ছোট ডিজাইন দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। যেমন গালে ছোট পতাকা, চোখের পাশে দলের রঙের স্ট্রাইপ বা কপালে ফুটবলের ছোট মোটিফ। একটু বেশি নিরীক্ষায় আগ্রহ যাদের, তারা পুরো মুখে টিম-থিমড আলপনা বা হাফ-ফেস ডিজাইন করতে পারেন।
আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল বা ফ্রান্স— যে দলই হোক, তাদের জার্সির রঙের সঙ্গে মিল রেখে মেকআপ করলে লুক আরও আকর্ষণীয় হয়। যেমন ব্রাজিল সাপোর্টাররা করতে পারেন হলুদ-সবুজ আইলাইনার বা নেইল আর্ট। আর্জেন্টিনার সমর্থকরা ব্যবহার করতে পারেন স্কাই ব্লু আইশ্যাডো বা ফেস গ্লিটার।
মেকআপের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। মুখে যদি বড় ফেস আর্ট থাকে, তাহলে চোখ বা ঠোঁটের সাজ হালকা রাখাই ভালো। ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা, সফট লাইনার আর লিপ টিন্ট যথেষ্ট। কেননা, অতিরিক্ত গ্লিটার বা ভারী বেস গরমে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
বিশ্বকাপের সাজ নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান পছন্দ। পুরুষদের জন্য টিম-থিমড গ্রুমিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দাড়িতে কালার স্প্রে, টেম্পোরারি হেয়ার কালার, টিম কালারের ব্যান্ডানা বা মুখে ছোট ফেস স্ট্রাইপ— সবই এখন ম্যাচ ডে স্টাইলের অংশ। শিশুদের ক্ষেত্রেও এমন সাজে বাড়তি আগ্রহ দেখা যায়। তবে তাদের ত্বক তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল। তাই শিশুদের জন্য অবশ্যই মাইল্ড ও স্কিন-সেফ রঙ ব্যবহার করা জরুরি। গ্লিটার চোখের কাছাকাছি না দেওয়াই মঙ্গল।
বিশ্বকাপের সাজের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ছবি তোলার সংস্কৃতিও। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য অনেকে বিশেষভাবে ম্যাচ ডে লুক তৈরি করেন। সেক্ষেত্রে দিনের আলোতে হালকা রঙ বেশি ভালো দেখায় আর রাতে ফ্ল্যাশে গ্লিটার বা নিয়ন কালার বেশি ফুটে ওঠে। গ্রুপ লুকে সবাই যদি একই রঙের ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইন করেন, তাহলে ছবিতে সেটি আরও আকর্ষণীয় লাগবে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ত্বকের নিরাপত্তা। নতুন কোনো রঙ ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পাশে ছোট্ট প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া দরকার।




