ফিটনেস
খেলা দেখা সুস্থ থাকা

মডেল: তাসমিয়া কানিজ আহমেদ। টি-শার্ট: ডিয়ার আজ। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
রাত জেগে খেলা দেখায় সারা দিনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব। ফিট থাকার উপায় জানাচ্ছেন ফিটনেস কোচ আছিফ মোহাম্মদ বিন আলম
বিশ্বকাপের বেশ কিছু ম্যাচ বাংলাদেশ সময় রাত ১টা, ভোর ৪টা কিংবা সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের ঘুমের রুটিনে পরিবর্তন আসবে। কীভাবে রাতের খেলা দেখে, দিনভর অফিস করেও সুস্থ থাকা সম্ভব, সেই পরিকল্পনা আগেই সেরে নেওয়া ভালো।
পর্যাপ্ত ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করার জন্য নয়; শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় শরীরে নানা ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। এ সময় নিঃসৃত হয় মেলাটোনিন, যা নিদ্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি শরীরের কোষ মেরামত, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও চলে ঘুমের মধ্যেই। নিয়মিত ঘুম কম হলে মনোযোগ কমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, এমনকি ওজন বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
তাই পরিকল্পনা করে নিন কোন ম্যাচগুলো টেলিভিশনে সরাসরি দেখবেন। যদি রাত ১টার ম্যাচ দেখার ইচ্ছা থাকে, তাহলে রাতের প্রথম ভাগে দুই থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। খেলা শেষে আবার কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। একইভাবে ভোর ৪টার ম্যাচ দেখতে চাইলে রাত ১০টা বা ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া ভালো। এতে শরীর অন্তত কিছুটা সময় পাবে নিজের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার।
অনেকেই রাত জেগে চিপস, কোমল পানীয়, আইসক্রিম কিংবা ভাজাপোড়া খাবার খেতে পছন্দ করেন। এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগে এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। রাতের সঙ্গী হিসেবে ফলমূল, বাদাম, দই, শসা, ছোলা বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস বেছে নেওয়া উত্তম।
রাত জেগে খেলা দেখার সময় শরীরের পানির চাহিদাও মাথায় রাখতে হবে। সামান্য পানিশূন্যতাও মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং মনোযোগে ঘাটতির কারণ হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক পানে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়। এসব পানীয় পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। খেলা দেখতে দেখতে বিরতির সময় কিংবা ম্যাচের মাঝখানে সুযোগ পেলেই কয়েক মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন। হালকা স্ট্রেচিং বা শরীরচর্চা রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে এবং ক্লান্তি কমাবে।




