ইন্টারন্যাশনাল ট্রেন্ড
ফুটবল-ফ্যাশন গ্ল্যামার

বিশ্বকাপ ঘিরে মাঠের বাইরে চলছে আরেক প্রতিযোগিতা— ফ্যাশনের। তাতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নেমেছে বিশ্বের নামি ব্র্যান্ডগুলো। জানাচ্ছেন সায়মন
ফুটবল আর ফ্যাশন যে হাত ধরাধরি করে চলতে পারে, ব্র্যান্ডগুলো যেন তারই প্রমাণ দেবে। ফিফার অফিসিয়াল পার্টনার হিসেবে অ্যাডিডাস বেশ কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাসহ ১৪টি জাতীয় দলের জার্সির দায়িত্ব নিয়েছে তারা। মাঠে খেলোয়াড়দের শরীর ঠান্ডা রাখার আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছে নিজেদের বিখ্যাত হাউজ অব তিরো নেশনস লাইফস্টাইল কালেকশন। আজকাল তরুণদের মধ্যে ফুটবল জার্সি সাধারণ পোশাক হিসেবে পরার যে ব্লককোর ফ্যাশন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে, সেটিই লুফে নিয়েছে এই ব্র্যান্ড।
নিজেদের স্পন্সর করা ১২টি দলের জন্য নাইকি এনেছে একদম নতুন প্রযুক্তির অ্যারো ফিট ফেব্রিক। যেন পোশাকের ভেতর দিয়ে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কমে। লাইফস্টাইল মার্কেট কাঁপাতে ব্র্যান্ডটি উন্মোচন করেছে এক্স টু ওয়ার্ল্ড কাপ ক্যাপসুল কালেকশন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে সরাসরি যুক্ত করে দিয়েছে বিশ্ববিখ্যাত ডিজাইনারদের সঙ্গে। সঙ্গে এনেছে হাই ফ্যাশন জার্সি ও ক্রায়োশট লাইফস্টাইল জুতা।
পুমা হেঁটেছে একদম ভিন্ন পথে। পর্তুগালের মতো হেভিওয়েট দলসহ তাদের স্পন্সরকৃত মোট ১১টি জাতীয় দলের জন্য তারা অফিসিয়াল অ্যাওয়ে কিট উন্মোচন করেছে ব্রুকলিনের ডমিনো স্কয়ারে, এক জমকালো পপ আপ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফুটবল দুনিয়ার কিংবদন্তি তারকারা। এ ছাড়া বড় বড় স্টেডিয়ামের বাইরে কাস্টমাইজড মোবাইল ট্র্যাক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্র্যান্ডটি, যা চলন্ত দোকানের মতো সরাসরি ভক্তদের কাছে নতুন কিট পৌঁছে দেবে।
স্প্যানিশ ব্র্যান্ড কেলমে চমক দেখিয়েছে বসনিয়া হার্জেগোভিনা এবং প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া জর্ডানের অফিসিয়াল টেকনিক্যাল স্পন্সর হয়ে। কাঁধের ওপর নজরকাড়া গ্রাফিকসের কাজ এবং সাশ্রয়ী দামের কারণে ব্র্যান্ডটি এখন উদীয়মান ফুটবল দলগুলোর কাছে বেশ জনপ্রিয় বিকল্প হয়ে উঠছে।
ইংল্যান্ডের শতবর্ষী ব্র্যান্ড আমব্রো তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশনপ্রেমীদের আকৃষ্ট করতে ক্ল্যাসিক ডাবল ডায়মন্ড লোগোর ঐতিহ্যকে আধুনিক স্ট্রিটওয়্যারের সঙ্গে চমৎকারভাবে মিশিয়ে রেট্রো ধাঁচের লাইফস্টাইল গিয়ার এবং বিশেষ ক্যাটাগরির পার্টনার এক্সপ্যানশন কালেকশন বাজারে এনেছে। খেলোয়াড়দের মাঠের পোশাকের বাইরে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক রূপটি সামলানোর দায়িত্ব নিয়েছে ইতালিয়ান মেনজওয়্যার ব্র্যান্ড বগি মিলানো। এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ফরমালওয়্যার ফিটার হিসেবে কাজ করছে ব্র্যান্ডটি। উত্তর আমেরিকার বৈচিত্র্যময় ও গরম আবহাওয়ায় ভ্রমণের সুবিধা মাথায় রেখে আরামদায়ক ও হালকা, কিন্তু মার্জিত ফেব্রিক দিয়ে এই পোশাকগুলো তৈরি করা হয়েছে।
লন্ডনের স্ট্রিটওয়্যার ব্র্যান্ড প্যালেস তরুণদের পছন্দের স্কেট সংস্কৃতির ছোঁয়া নিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে হাজির হয়েছে। নাইকির এক্স টু পাইপলাইনের মাধ্যমে তারা ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জন্য একটি বহুল প্রতীক্ষিত ক্যাপসুল কালেকশন ডিজাইন করেছে। এতে ব্রিটিশ ফুটবলের পুরনো নস্টালজিয়া আর তরুণদের সাবকালচারাল গ্রাফিকসকে এক করে দিয়েছে ব্র্যান্ডটি। তাদের এই আয়োজনে মূলত থাকছে সীমিত সংস্করণের ট্র্যাকস্যুট ট্রেনিং কিট এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী মিশ্র পোশাক।
লুই ভিঁতো প্যারিসের কাছেই তাদের ঐতিহাসিক কারখানায় তৈরি করছে অফিসিয়াল ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি ট্রাভেল কেস। ২০২৬ সালের এই বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করা হয়েছে টাইটানিয়াম দিয়ে। এতে লেজার খোদাই করা মনোগ্রাম রয়েছে, যা উদ্বোধনী ও ফাইনাল ম্যাচে খাঁটি সোনার ট্রফিটিকে নিরাপদে বহন করবে। এর পাশাপাশি ব্র্যান্ডটি অত্যন্ত এক্সক্লুসিভ ও সীমিত সংস্করণের ট্রাভেল লাগেজ এবং চামড়ার তৈরি জিনিসপত্রের কালেকশন বাজারে এনেছে।





