মেক্সিকোর ভিডিও ছড়িয়ে বিএনপির নামে প্রচার

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মর্মান্তিক ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ করার অপরাধে এক জীবিত মানুষের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটির সাথে বাংলাদেশের রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। মেক্সিকোর একটি মাদক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী তার প্রতিপক্ষদের ভয় দেখাতে একজনকে জীবিত আগুনে পোড়ানোর ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়।
কী দাবি করা হচ্ছে?
গতকাল ২১ আগস্ট বেশ কয়েকটি ফেসবুক প্রোফাইল ও পেজে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফ্লেমথ্রোয়ার (অগ্নিশিখা নির্গমনকারী যন্ত্র) দিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে ‘Shipon Islam’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ৫ হাজারের বেশি বার শেয়ার করা হয় এবং এতে ১ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়ে। অনুসন্ধানে অন্যান্য অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকেও একই দাবিতে ভিডিওটি ছড়াতে দেখা যায়।
আসল ঘটনা কী?
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর স্থিরচিত্র নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে, ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর ‘HaberLog’ নামক একটি ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়, মেক্সিকোর একটি মাদক চক্র তাদের শত্রুদের ভয় দেখানোর জন্য এক ব্যক্তিকে ফ্লেমথ্রোয়ার দিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ভিডিওটি শেয়ার করেছে। ভিডিওতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ‘CJNG’ লেখা একটি জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।
পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে ‘Gorecenter’ নামক একটি ওয়েবসাইটেও একই ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানে জানানো হয়, মর্মান্তিক ঘটনাটি মেক্সিকোর কুখ্যাত ড্রাগ কার্টেল ‘CJNG’ গ্রুপ ঘটিয়েছে।
অতএব, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, আওয়ামী লীগ করার অপরাধে বিএনপির নেতাকর্মীরা জীবিত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে বলে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মেক্সিকোর ড্রাগ কার্টেলের একটি পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।









