আয়নায় নিজেকে দেখে সত্যি কি আঁতকে উঠেছিলেন ফুটবলার হাল্যান্ড?

ছবি: আগামীর সময়
নরওয়েজিয়ান তারকা ফুটবলার আর্লিং হাল্যান্ড খাবার খাওয়ার সময় পাশে থাকা আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে হঠাৎ ভয় পেয়ে গেছেন—দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কথিত হাল্যান্ড খাবার খাওয়ার সময় তাঁর বাম পাশে থাকা আয়নায় তাকিয়ে হঠাৎ আঁতকে উঠছেন। মজার এই দৃশ্যটি দেখে সাধারণ নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবির কোনো সত্যতা নেই। প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয়; বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি ডিপফেক ভিডিও।
দৃশ্যমান অসংগতি
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রথমত আন্তর্জাতিক কোনো নির্ভরযোগ্য মূলধারার গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমে এমন কোনো খবরের অস্তিত্ব বা তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দ্বিতীয়ত, ভিডিওটি গভীরভাবে দৃশ্যমান বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু বড় ধরনের ত্রুটি ও অসংগতি ধরা পড়ে। ভিডিওতে হাল্যান্ডকে তাঁর ক্লাব ‘ম্যানচেস্টার সিটি’-র জার্সি পরিহিত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। কিন্তু ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, জার্সির বুকে থাকা মূল স্পন্সর ‘Etihad’ লেখাটি এবং বাম পাশে থাকা ক্লাবের অফিসিয়াল লোগোটি সম্পূর্ণ বিকৃত ও অস্পষ্ট। এই ধরনের কৃত্রিম লোগো বিকৃতি সাধারণত কেবল এআই-নির্ভর কনটেন্ট বা ভিডিওতেই দেখা যায়।
আসল ভিডিওর উৎস অনুসন্ধান
অনুসন্ধান চলাকালীন ভিডিওটির প্রকৃত উৎস খুঁজতে গিয়ে ‘jinlongquiqui’ নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্টে গত ১৫ জুন প্রকাশিত একটি মূল ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই আসল ভিডিওটির সাথে বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দৃশ্যপট, খাবারের টেবিল, আয়না এবং আশপাশের পরিবেশের নিখুঁত ও হুবহু মিল রয়েছে। মূল ভিডিওটি তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ এবং ওই টিকটক অ্যাকাউন্টে একই ব্যক্তির আরও বেশ কিছু অনুরূপ ভিডিও রয়েছে। এতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, টিকটকের ওই সাধারণ ব্যক্তির ভিডিওটিই আসল এবং সেটিকে ভিত্তি করেই ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে হাল্যান্ডের মুখ বসানো হয়েছে।
এআই শনাক্তকরণ টুলের প্রমাণ
ডিজিটাল জালিয়াতির বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে শতভাগ নিশ্চিত করতে আলোচিত ভিডিওটি এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘Undetectable AI’-তে বিশ্লেষণ করা হয়। এই টুলের উন্নত প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভিডিওটি কোনো বাস্তব ক্যামেরায় ধারণ করা হয়নি। প্ল্যাটফর্মটি ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯১ শতাংশ বলে নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও অন্যান্য এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুলসেও ডিজিটালি সম্পাদিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ ও আধুনিক প্রযুক্তির বিশ্লেষণ শেষে এটি নিশ্চিত যে, খাওয়ার সময় আয়নায় নিজেকে দেখে ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ডের আঁতকে ওঠার দাবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট। ‘jinlongquiqui’ নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ব্যক্তির বাস্তব ভিডিওকে কাটছাঁট করে, ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে আর্লিং হাল্যান্ডের মুখাবয়ব জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।





