শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা আবিদের ভাইরাল ছবিটি কি সত্যি

ছবি: আগামীর সময়
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা আবিদুল ইসলাম খানের একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া এই পোস্টগুলোর ক্যাপশনে বিদ্রূপাত্মকভাবে লেখা হচ্ছে, "কি বট বাহিনী জ্বলে রাগ করলা?" এবং এটিকে একটি বাস্তব রাজনৈতিক সাক্ষাতের ছবি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রচারিত ছবিটি বাস্তব কোনো ঘটনার আলোকচিত্র নয়, বরং এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা একটি সম্পাদিত ছবি।
প্রেক্ষাপট ও ভাইরাল দাবি
সম্প্রতি ফেসবুকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি পোস্ট করে বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হচ্ছে। নেটিজেনদের বিভ্রান্ত করতে ছবিটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বা কূটনৈতিক সাক্ষাতের দৃশ্য।
অনুসন্ধান ও আসল ছবির উৎস
ছবির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, এটি কোনো আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ছবি নয়। প্রকৃতপক্ষে, ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের নিজেরই (গতকালের) পোস্ট করা একটি বাস্তব ছবিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সূক্ষ্মভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে। মূল ছবিতে থাকা ব্যাকগ্রাউন্ড বা ব্যক্তির পাশে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ছবি যুক্ত করে এই বিভ্রান্তিকর দৃশ্যটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও এআই শনাক্তকরণ
ছবিটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় এর ওপর প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ চালানো হয়। এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল ‘AI or Not’ এবং গুগলের উন্নত এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘Gemini’ ব্যবহার করে ছবিটি গভীরভাবে পরীক্ষা করা হয়। উভয় টুলের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট উঠে এসেছে যে, আলোচিত ছবিটি বাস্তব নয় এবং এটি এআই-নির্মিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও হাইভ ডিটেক্ট টুলের ফলাফল অনুযায়ী, ছবিটি পুরোপুরি এআই দিয়ে বানানো না হলেও, এটি এডিট বা ডিপফেক হওয়ার সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ রয়েছে।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের সাক্ষাতের ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। ছাত্রদল নেতার নিজের একটি ছবিকে এআই ও এডিটিং প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে পরিবর্তন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।






