৯৪ বছর বয়সে প্রয়াত পদ্মশ্রী পাওয়া অভিনেত্রী সৌকার জানকী

সৌকার জানকী। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের পদ্মশ্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সৌকার জানকী আর নেই। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগে চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পরলোক গমন করেন। প্রবীণ এই অভিনেত্রীর প্রয়াণে পুরো দক্ষিণী চলচ্চিত্রাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯৩১ সালের ১২ ডিসেম্বর একটি কন্নড় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই অভিনেত্রী। ১৯৫০ সালে প্রখ্যাত পরিচালক এল. ভি. প্রসাদের তেলুগু সিনেমা ‘শভুকারু’-র মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। প্রথম সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়ার পর তার নামের সাথে ‘সৌকার’ শব্দটি স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে ‘ভালাইয়াপতি’ সিনেমার মাধ্যমে তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন তিনি।
চার দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তেলুগু, তামিল, কন্নড় ও মালয়ালম ভাষায় অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করেছেন জানকী। ১৯৫৯ সালে কন্নড় সুপারস্টার ড. রাজকুমারের সাথে তার অভিনীত ‘মহিষাসুর মর্দিনী’ সিনেমাটিকে কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসেই প্রথম প্যান-ইন্ডিয়ান সফল সিনেমাগুলোর একটি ধরা হয়।
তার অভিনয় জীবনের অন্যতম সেরা কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ইরু কোডুগাল’, ‘থিরুনীলকান্তর’, ‘বাটাসারি’ ও ‘পুধিয়া পারাভাই’। একাধিক প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন এক অনুপ্রেরণার নাম।
ভারতীয় চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাকে দেশটির অন্যতম সম্মানজনক নাগরিক পুরস্কার ‘পদ্মশ্রী’-তে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি রাজ্য সরকারের সম্মানজনক ‘নন্দী অ্যাওয়ার্ডস’ এবং ‘কালাইমামানি’ পুরস্কার লাভ করেছেন।
মৃত্যুর আগে ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তেলুগু সিনেমা ‘অ্যানি মাঞ্চি সাকুনামুলে’-তে শেষবারের মতো বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল এই অভিনেত্রীকে। সেখানে সন্তোষ শোভনের দাদীর চরিত্রে তার সাবলীল অভিনয় দর্শকমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়।







