‘থেরি’ জুটির রিইউনিয়নে সরগরম চেন্নাই

থালাপতি বিজয় ও সামান্থা। ছবিঃ ইনস্টাগ্রাম
দক্ষিণ ভারতের রাজনীতি এবং সিনেমার সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। এম জি রামচন্দ্রন, করুণানিধি বা জয়ললিতার মতো মহাতারকারা রূপালী পর্দা থেকে এসে তামিলনাড়ুর মসনদ শাসন করেছেন। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন থালাপতি বিজয় এবং তার নবগঠিত রাজনৈতিক দল টিভিকে। এক্সিট পোলের সমস্ত পূর্বাভাসকে সত্য প্রমাণ করে বিজয়ের এই ঐতিহাসিক জয়ের পর, চেন্নাইয়ের মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয়ে দেখা গেল এক নস্টালজিক দৃশ্য। বিজয়ের সাথে দেখা করতে এলেন তার তিনটি ব্লকবাস্টার ছবির নায়িকা সামান্থা রুথ প্রভু।
বিজয় যখন তার ফিল্মি ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে রাজনীতিতে আসার এবং সিনেমা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলেছিলেন। কিন্তু ‘মার্সাল’ বা ‘থেরি’-র মতো ছবিতে যেভাবে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলেছিলেন, বাস্তব জীবনেও তামিলনাড়ুর মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম তার ওপর সেই ভরসা রেখেছেন। ২০২৬-এর নির্বাচনে এক বিশাল জয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সামান্থার এই ভিজিট এবং তাকে ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী’ বলে সম্বোধন করা রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সামান্থা খুব স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বিজয় স্যারের ভেতরের লিডারশিপ কোয়ালিটি আমি শুটিং সেটেই দেখতাম। তিনি কেবল পর্দার নায়ক নন, বাস্তবের জননেতা।’
সামান্থার এই পোস্টটি কেবল একটি শুভেচ্ছাবার্তা নয়, বরং এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বড় মেসেজ। নিজের সুপ্রতিষ্ঠিত এবং কোটি টাকার ক্যারিয়ার এক ঝটকায় ছেড়ে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ও কাদা-ছোড়াছুড়ির রাজনৈতিক ময়দানে নামার জন্য যে অসীম সাহসের প্রয়োজন হয়, সামান্থা মূলত সেটিকে স্যালুট জানিয়েছেন। বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই সততা এবং জনসেবার উদ্দেশ্যই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন ও পজিটিভ যুগের সূচনা করল।
বিজয়ের এই রাজনৈতিক পথচলা কতখানি মসৃণ হয় এবং সামান্থার এই শুভেচ্ছা তামিলনাড়ুর আমজনতার মনে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





