গান নাচ ভায়োলিনের লড়াই, ইউরোভিশন ফাইনালে জম্পেশ উত্তেজনা!

সংগৃহীত ছবি
ইউরোভিশন গান প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ শনিবার রাতে। ভিয়েনার রাজকীয় মঞ্চে এবার ফিনল্যান্ড, গ্রিস আর অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো লড়বে সেরার মুকুট জিততে। মজার ব্যাপার হলো, ভিয়েনার এই আমেজ দেখে প্রতিযোগীদের প্রায় অর্ধেকই তাদের গানে বিনা প্রয়োজনে ঢুকিয়ে দিয়েছেন অপেরার সুর।
দর্শকরা এবার গানের ফাঁকে ফাঁকে উপভোগ করবেন হাড়কাঁপানো সব নাচের মুদ্রা। অনেক গায়ক আবার বেছে নিয়েছেন মাত্রাতিরিক্ত যৌন আবেদনময় সব রক মিউজিক। এমনকি ইউরোভিশনের ইতিহাসেও এবার শোনা যাবে দীর্ঘতম সময়ের এক বিরতিহীন সুর।
গ্রিক গায়ক আকিলাস আট মাস আগেও অভাবের সাথে লড়াই করছিলেন আথেন্সের রাস্তায়। তিনি অভাবের তাড়নায় ওয়েটারের কাজ ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় গান গেয়ে বেড়াতেন নিজের ঘরভাড়া আর বিল মেটাতে। তখন মানুষ তাকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করলেও, আজ তিনি প্রতিনিধিত্ব করছেন নিজের প্রিয় দেশের হয়ে।
২৭ বছর বয়সী এই গায়কের ‘ফের্তো’ গানটি বর্তমানে বাজিমাত করছে ইউটিউব আর সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনি নিজের গানে ফুটিয়ে তুলেছেন বাবা-মায়ের সেই কষ্টের দিনগুলোর কথা। আধুনিক মিউজিকের সাথে গ্রিসের প্রাচীন বাদ্যযন্ত্রের মিলন ঘটিয়ে তিনি এবার ট্রফি জয়ের বেশ শক্ত দাবিদার।
অস্ট্রেলিয়া কেন এই ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। ১৯৭৪ সালে ‘আবা’ ব্যান্ড জেতার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ানরা এই গানের লড়াইয়ের পাগল ভক্ত। ২০১৫ সালে তারা প্রথমবার অতিথি হিসেবে আসলেও এখন তারা প্রতি বছরই অংশ নিচ্ছেন নিজের দেশের জান লড়িয়ে দিতে।
অস্ট্রেলিয়া এবার পাঠিয়েছে তাদের জনপ্রিয় পপ স্টার ডেল্টা গুডরেমকে। ডেল্টার ‘এক্লিপস’ গানটি বর্তমানে বাজির দরে সবাইকে পেছনে ফেলে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে। যদি এবার অস্ট্রেলিয়া জিতে যায়, তবে আগামী বছর কোন দেশে এই অনুষ্ঠানটি হবে তা নিয়ে এখনই চলছে পর্দার আড়ালে নানা হিসাব-নিকাশ।
ফিনল্যান্ড এবার জয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে তাদের এক পাগল করা প্রেমের গান নিয়ে। গায়িকা লিন্ডা ল্যাম্পেনিয়াস যখন হাই হিল জুতো পরে মঞ্চে দৌড়াদৌড়ি করেন, তখন দর্শকদের দম যেন বন্ধ হয়ে আসে। কারণ, তার হাতে থাকে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের এক দুষ্প্রাপ্য প্রাচীন ভায়োলিন, যা একটু এদিক-সেদিক হলেই চুরমার হয়ে যেতে পারে।
মলদোভোর গায়ক সাতোশি মঞ্চে ওঠার ঠিক আগে শুরু করেন কাল্পনিক দড়ি লাফানোর কসরত। তিনি নিজের গানে মলদোভোর স্বাধীনতার ৩৫ বছর পূর্তির আনন্দকে এক দারুণ নাচের গানে রূপান্তর করেছেন। বক্সিংয়ের এই শৌখিন খেলোয়াড় নিজের গানে বর্ণমালার মাধ্যমে ইতিহাস তুলে ধরে সবার মন জয় করে নিয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে ইউরোপজুড়ে বর্তমানে চলছে তীব্র সমালোচনা আর বিক্ষোভ। গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে পাঁচটি দেশ ইতিমধ্যে এই অনুষ্ঠান বয়কট করার ডাক দিয়েছে। সেমিফাইনালে ইসরায়েলি গায়ক নোয়াম বেটান দর্শকদের দুয়োধ্বনির মুখে পড়লেও তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি এমন পরিস্থিতির জন্য আগেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন।
সুইডেনের গায়িকা ফেলিসিয়া সাধারণত মুখে মাস্ক পরে পারফর্ম করলেও সেমিফাইনালে এক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তার মাস্ক খুলে যায়। এরপর থেকেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিজের কণ্ঠস্বর হারিয়ে বর্তমানে আছেন একদম মৌন অবস্থায়। যদি তার ভাগ্য সহায় হয় এবং তিনি জেতেন, তবে আয়ারল্যান্ডের রেকর্ড ভেঙে সুইডেনই হবে এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসের সেরা দেশ।
যুক্তরাজ্য এবার ট্রফি জেতার জন্য বাজি ধরেছে এক বিচিত্র পাগলাটে প্রতিভাকে নিয়ে। স্যাম ব্যাটেল নামের এই ইউটিউবার নিজের গ্যারেজে বানানো এক আজব যন্ত্র দিয়ে তৈরি করেছেন তার গান। তিনি মজা করে বলেছেন, যদি এবারও জিরো পয়েন্ট পান, তবে ‘লুক মম, নো পয়েন্ট’ লেখা টি-শার্ট পরে তিনি সান্ত্বনা খুঁজবেন।
নরওয়ের গায়ক জোনাস লভকে আয়োজকরা কড়া ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন তার নাচের মাত্রা কমাতে। আয়োজকদের মতে, তার শরীরের হিপস দোলানো নাকি পারিবারিক এই অনুষ্ঠানের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। তবে জোনাস দমে যাওয়ার পাত্র নন, তিনি কায়দা করে চোখের ইশারায় তার সেই গ্ল্যামার ঠিকই ধরে রেখেছেন।
বুলগেরিয়া আর রোমানিয়ার মতো দেশগুলো এবার মঞ্চে এনেছে অদ্ভুত সব সাজসজ্জা আর চিৎকারের গান। ইউক্রেনের গায়িকা এবার একটানা ৩০ সেকেন্ড উচ্চস্বরে সুর টেনে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ভিয়েনার এই গানের আসর এবার মাতাবে পুরো বিশ্বকে, যা হবে দেখার মতো এক স্মরণীয় লড়াই!
সূত্রঃ বিবিসি










