গানে গানে অমর হয়ে আছেন আবু হেনা মোস্তফা কামাল

আবু হেনা মোস্তফা কামাল। ছবি তৈরি এআই সহযোগে
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, প্রখ্যাত গবেষক ও বাংলা গানের উজ্জ্বল বাণীকার অধ্যাপক আবু হেনা মোস্তফা কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মাত্র ৫৩ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৩৬ সালের ১৩ মার্চ পাবনার উল্লাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা এই গুণী ব্যক্তিত্ব একাধারে ছিলেন একজন কবি, লেখক, অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে বাককুশল রসিক উপস্থাপক।
১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর শেষে তিনি শিক্ষকতায় যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
পঞ্চাশের দশকে সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে তরুণ কবি ও গীতিকার হিসেবে আবু হেনা মোস্তফা কামালের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ‘সেই চম্পা নদীর তীরে’, ‘অপমানে আমি তো জল হয়ে যাবো’, ‘তুমি যে আমার কবিতা’ এবং ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’-এর মতো কালজয়ী ও নস্টালজিক সব গান তারই অনন্য সৃষ্টি।
কাব্যচর্চার ক্ষেত্রে ‘আপন যৌবন বৈরী’, ‘যেহেতু জন্মান্ধ’ ও ‘আক্রান্ত গজল’ গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় নিজস্ব ধারা তৈরি করেছিলেন।
কেবল সৃষ্টিশীল সাহিত্যেই নয়, ‘শিল্পীর রূপান্তর’ ও ‘কথা ও কবিতা’-র মতো প্রাঞ্জল ও মননশীল সাহিত্য-সমালোচনা এবং ইংরেজি গবেষণাগ্রন্থ ‘দ্য বেঙ্গলি প্রেস অ্যান্ড লিটারেরি রাইটিং’-এর মাধ্যমে তিনি বাংলা গদ্যের পরিমণ্ডলে স্বকীয়তার পরিচয় দেন।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও সুহৃদ সাহিত্য স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। এই অমর গুণীর স্মৃতির প্রতি আজ গভীর শ্রদ্ধা ও মাগফিরাত কামনা করি।




