কোন পথে গ্রুপ থিয়েটার চর্চা

থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানির পরিবেশনায় ‘মলুয়া’ নাটকের একটি দৃশ্য
মঞ্চে একের পর এক আসছে নতুন নাটক। সরগরম থিয়েটার অঙ্গন। বাড়ছে রেপার্টরি নাট্যদলের সংখ্যা। তবে এর ভিড়ে গ্রুপ থিয়েটার চর্চা যেন পথ হারিয়ে ফেলছে।
একসময় রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বিভিন্ন অনাচারের বিরুদ্ধে গ্রুপ থিয়েটারের সংগঠনগুলোকে সরব দেখা যেত। সম্প্রতি সেই ভূমিকা বিরল। এর কারণ ব্যাখ্যা করলেন নাট্যনির্দেশক ও অভিনেতা সাইফুল জার্নাল, ‘বিগত সময়ে কেউ কেউ জাতীয় রাজনীতিতে এমনভাবে জড়িয়েছেন, তাতে সংস্কৃতিকর্মী সত্তা তারা হারিয়ে ফেলেছেন। আবার গ্রুপ থিয়েটার দলগুলোতেও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি রয়েছে। এ কারণে কেউ কেউ রেপার্টরি চর্চার দিকে ঝুঁকছেন। এতে সম্মিলিত শক্তি আরও খণ্ডিত হচ্ছে। থিয়েটারের যে একটি সামাজিক দায় বা লড়াইয়ের জায়গা, সেটি সংকুচিত হচ্ছে।’ নতুন নাটক আসা বা দল তৈরির পাশাপাশি নাট্যদলের দর্শন বা মতাদর্শিক লড়াইয়ের জায়গা থাকাও জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
নাট্যনির্দেশক ও শিক্ষক সৈয়দ জামিল আহমেদ গত জুলাইয়ে আগামীর সময়কে বলেছিলেন, ‘প্রচলিত অর্থে গ্রুপ থিয়েটারের সময় শেষ হয়ে আসছে। কারণ এর সামাজিক-অর্থনৈতিক ভিত্তিই বদলে গেছে। সত্তরের দশকে মধ্যবিত্তের উদ্বৃত্ত সময় ছিল। এখন বিশ্বায়ন ও নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মানুষকে জীবিকা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই আমি মনে করি, ভবিষ্যৎ বড় দলের নয়; ছোট, নিবেদিত দল এবং ছোট আকারের প্রযোজনার। দুই-তিন কিংবা অল্পসংখ্যক চরিত্রের নাটক, ছোট স্টুডিও থিয়েটার এবং নিজস্ব পরিবেশনায় সম্ভাবনার জায়গা বেশি।’
গত জুলাই থেকে চলতি অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকার মঞ্চে এক ডজনের বেশি নতুন নাটক এসেছে। এর মধ্যে গতকাল বুধবারও মঞ্চায়িত হয়েছে একটি নতুন নাটক— হান্ট থিয়েটারের ‘তবুও প্রেম আসে’। অন্যদিকে নাট্যদল পালাকার মঞ্চে নিয়ে আসছে ১৯৭৫ সালে সেলিম আল দীনের রচিত নাটক ‘আতর আলীদের নীলাভ পাট’। মগবাজার ওয়্যারলেসের পালাকার রুফটপ স্টুডিওতে আগামীকাল শুক্রবার এটি মঞ্চস্থ হবে। এ ছাড়া বৃহস্পতি ও শুক্রবার আরব্য রজনীর চিরন্তন গল্প ‘আলাদিন’-এর মঞ্চায়ন করবে সানিডেইল মিডল স্কুল। এর আগে পাওলো কোয়েলহোর উপন্যাস অবলম্বনে নাট্যদল এক্টোম্যানিয়া মঞ্চে এনেছে ‘দ্য আলকেমিস্ট: সুবর্ণস্রষ্টা’। চারণিক প্রদর্শনী করেছে ‘কালযাত্রা’র। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির ড্রামা অ্যান্ড থিয়েটার ফোরামের উদ্যোগে মঞ্চে এসেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’। ঐতিহ্যবাহী লোকগাথা ও ক্লাসিক রচনার আধুনিক মঞ্চায়নও দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানির প্রযোজনায় সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে এবং চুনারুঘাটে মঞ্চস্থ হয়েছে লোকগাথাভিত্তিক নাটক ‘মলুয়া’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই পাখি’ ও ‘রক্তকরবী’ অবলম্বনে নাগরিক নাট্যাঙ্গন মঞ্চে এনেছে নতুন প্রযোজনা ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’। এ ছাড়া নাট্যদল বাঁধনহারা পরিবেশন করেছে অ্যালেন গিন্সবার্গের কবিতা অবলম্বনে গীতিআলেখ্য ‘যশোর রোড’। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার থিয়েটার ওয়ার্কশপের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয়েছে ইংরেজি নাটক ‘দ্য পাইড পাইপার অব হ্যামেলিন’। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) মঞ্চে এনেছে নোবেলজয়ী ইয়োন ফসের নাটক ‘সুসানাহ’।



