পালাকারের নতুন নাটক আতর আলীদের নীলাভ পাট

নাটকটির একটি দৃশ্য - পালাকার
সেলিম আল দীনের লেখা ‘আতর আলীদের নীলাভ পাট’ মঞ্চে আনছে নাট্যদল পালাকার। ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার মগবাজার ওয়্যারলেসের বিশাল সেন্টারে পালাকার রুফটপ স্টুডিওতে এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে। পরদিন (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় থাকছে দ্বিতীয় প্রদর্শনী।
নাটকটির নির্দেশনা দিচ্ছেন আমিনুর রহমান মুকুল। তিনি বললেন, ‘সেলিম আল দীন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ শিকড়সন্ধানী নাট্যকার। তার নাটক মঞ্চে নিয়ে আসা আনন্দ ও গৌরবের। পালাকারের স্টুডিও প্রযোজনা নির্মাণের ধারাবাহিকতায় এ নাটক সাজানো হয়েছে। রুফটপ স্টুডিওর সীমিত পরিসরে দর্শক ও অভিনেতার মধ্যে একটি অন্তরঙ্গ যোগাযোগের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করাই ছিল প্রযোজনাটির অন্যতম লক্ষ্য।’
প্রায় এক ঘণ্টার প্রযোজনাটিতে উঠে এসেছে প্রান্তিক পাটচাষি আতর আলীর জীবনসংগ্রাম, শ্রমের মূল্য, অর্থনৈতিক বঞ্চনা এবং একটি জনপদের গভীরতর সামাজিক সংকট।
পালাকার মনে করে, বাংলার লোকনাট্যের ‘পালাকার’ যেমন মানুষের জীবন, স্বপ্ন, সংকট ও সংগ্রামের গল্প বলেছেন, তেমনই থিয়েটারেরও মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার দায় রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই দলটি মূলধারার প্রযোজনার পাশাপাশি নিরীক্ষাধর্মী স্টুডিও থিয়েটার ও ডেভেলপমেন্ট থিয়েটারের চর্চা করে আসছে। ‘আতর আলীদের নীলাভ পাট’ সেই ধারাবাহিকতারই নতুন প্রয়াস।
১৯৭৫ সালে সেলিম আল দীন রচিত ‘আতর আলীদের নীলাভ পাট’-এর কেন্দ্রে রয়েছে পাটচাষি আতর আলী। পাট কাটতে গিয়ে তার আঙুলে ক্ষত সৃষ্টি হয়। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় সেই ক্ষতে ধীরে ধীরে পচন ধরে। একই সময় মহাজনের কাছ থেকে পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, উৎপাদিত পাট অন্যত্র বিক্রি করতে না পারা এবং অনাহারে শুকিয়ে যাওয়া গরুর মতো নানা সংকট আতর আলীর জীবনকে ক্রমেই বিপন্ন করে তোলে।
তার হাতের পচন ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত যন্ত্রণার সীমা অতিক্রম করে একটি বৃহত্তর জনপদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অস্তিত্বগত পচনের প্রতীকে পরিণত হয়। সময়ের ব্যবধান পেরিয়ে নাটকটি আজও শ্রমজীবী আর প্রান্তিক মানুষের জীবন, শ্রমের মূল্য এবং বঞ্চনার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে।




