জীবন কখনো কখনো মজার হয়ে ওঠে

অস্কারজয়ী ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সিনেমায় সাবেক বিপ্লবী বব ফার্গুসন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমেরিকান অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জনি হক
লিও, ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ চলচ্চিত্রে ডার্ক হিউমারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করতে চাই। পর্দায় আপনার ও বেনিসিও দেল তোরোর দৃশ্যগুলোয় যেসব হাস্যরস রয়েছে, সেগুলো তৈরির ক্ষেত্রে গল্পের গভীর রাজনৈতিক বিষয়বস্তুর সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কমেডি অভিনয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। কারণ, বাস্তবতা থেকেই জন্ম নেয় কমেডি। আমার মনে হয় না, সিনেমাটিতে এমন কোনো মুহূর্ত ছিল, যেখানে আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে রসিক হওয়ার চেষ্টা করেছি। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে শুধু নিশ্চিত করতে হবে, আপনি বিষয়টিকে বিশ্বাস করছেন এবং বাস্তবসম্মত করে তুলছেন। তারপর যদি সেটি দর্শকের কাছে মজার মনে হয়, তাহলে তারা মজা পায়। আমার মনে হয় না, ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এ কখনো মানুষকে হাসানোর জন্য অভিনয় করেছি। সবকিছুই এসেছে পরিস্থিতি বোঝা, দৃশ্যের বিবরণ মনোযোগ দিয়ে শোনা, জুতসই প্রতিক্রিয়া জানানো এবং সেভাবে অভিনয়ের মাধ্যমে। সব মিলিয়ে বাস্তবিক করার চেষ্টা থেকে হাস্যরস সৃষ্টি হয়েছে। আমার কাছে কমেডিটা ছিল এমন কিছু, যা দেখে আমি নিজেই অবাক হয়েছি যে মানুষ এটাকে এত মজার মনে করেছে। কারণ, আমি তো রসিক হওয়ার চেষ্টা করিনি।
ফোনে কথা বলার দৃশ্যগুলোয় প্রায় উন্মত্ত হয়ে যেতে দেখেছি আপনাকে। তখন মনে হয়েছে, বাস্তবে আমরা নিজেরাও এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ি! এসব মুহূর্ত সত্যিই বেশ মজার ছিল!
যখন ফোনে কথা বলছিলাম, অনেকবারই দেখেছি ক্যামেরার বাইরে আমার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতেন বেনিসিও (মেক্সিকান অভিনেতা বেনিসিও দেল তোরো)। তখন আমার ক্লোজআপ শট চলত। সে সময়ে খেয়াল করেছি, পল (পরিচালক পল টমাস অ্যান্ডারসন) হাসছেন। তিনি আঙুল কামড়ে হাসি চেপে রাখছেন। বেনিসিওকেও একইভাবে হাসতে দেখেছি। অথচ দৃশ্যটিতে হাস্যরসাত্মক উপাদান যোগ করার চেষ্টা ছিল না আমাদের। তারা হাসছিলেন, কারণ ঘটনাটি সত্যি মনে হয়েছে তাদের। সবকিছুই নির্ভর করে পরিস্থিতির বাস্তবতার ওপর। যারা সিনেমাটি দেখেছেন, তারা এটি বুঝবেন।
আপনার কাছে কেমন চরিত্রের অভিনয় মজার মনে হয়?
আমি মনে করি, জোর করে কোনো হাস্যরস তৈরির চেষ্টা করলে সেটি কাজে আসে না। ব্যক্তিগতভাবে আমি সাধারণত এমন কিছুতে হাসি, যখন গল্পে কোনো চরিত্রের সত্যিকারের ঝক্কি ও বাস্তব গুরুত্ব দেখি। তখনই ব্যাপারটা আমার কাছে মজার লাগে, যখন দেখি চরিত্রটি সত্যিই সংকটের মধ্যে রয়েছে। জীবনের এমন কিছু পরিস্থিতি ও বাস্তবতা আছে, যা আমার মধ্যে এমন ভাবনা তৈরি করে, ‘হায় ঈশ্বর! এটা কি হাস্যকর! অথচ ব্যাপারটা খুবই অস্বস্তিকর।’ মনে হয় না আমরা কখনো ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সিনেমায় কমেডিটা জোর করে ঢোকানোর চেষ্টা করেছি। এতে হাস্যরস যেভাবে এসেছে, তাতে আমি খুশি। কারণ, জীবন কখনো কখনো সত্যিই মজার হয়ে উঠতে পারে।
যে কারও বাস্তব জীবনেই কি হাস্যরস থাকে বলে মনে করেন?
যদি আমাদের সবার জীবন পর্যবেক্ষণের কোনো উপায় থাকত, তাহলে আমাদের আচরণ এবং আমরা যেসব পরিস্থিতির মধ্যে থাকি, সেগুলোর মধ্যে অজস্র মজার মুহূর্ত খুঁজে পাওয়া যেত। এটাই তো জীবন!
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এর বিষয়বস্তু
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পটভূমিতে রচিত আমেরিকান কথাসাহিত্যিক টমাস পিঞ্চনের ‘ভিনল্যান্ড’ উপন্যাস প্রকাশ হয় নব্বই দশকে। এতে ষাটের দশকের হিপ্পি সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের প্রতিবাদ তুলে ধরা হয়েছে। ‘ভিনল্যান্ড’ উপন্যাসে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পল টমাস অ্যান্ডারসন পরিচালনা করেছেন অ্যাকশন থ্রিলার ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’। এতে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা ও আইনকে তোয়াক্কা না করা বিপ্লবী গোষ্ঠীর সদস্য বব ফার্গুসন চরিত্রে অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। গল্পে দেখানো হয়েছে, সামরিক শক্তি ও শ্বেত আধিপত্য মিলেমিশে ভিন্নমতকে পরিণত করে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে। বিপ্লবীরা তাই আদর্শ প্রচারে নয়, বরং টিকে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খেতে থাকে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স প্রযোজিত এই সিনেমায় সেরা চলচ্চিত্রসহ ছয়টি বিভাগে অস্কার জিতেছে।





