পরিচিত ধারার বাইরে নতুন কিছু করলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসবেই

(বাঁয়ে ওপর থেকে) সৈকত নাসির, আজমান রুশো, সাইফ চন্দন। (ডানে ওপর থেকে) মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, মেজবাউর রহমান সুমন
সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত সিনেমাগুলোর নির্মাতারা। তবে একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার চিত্র তুলে ধরেছেন তারা। নিজেদের নতুন চলচ্চিত্রের প্রথম সাত দিনের ব্যবসার পরিপ্রেক্ষিতে মতামত জানিয়েছেন পাঁচ জন।
‘বনলতা সেন’-এর পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল বলেন, “আমাদের দেশে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রায়ই বিভিন্ন বাধা ও আপসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এখানে অর্থ বিনিয়োগের বিষয় আছে, সেই অর্থ ফেরত আসার চাপও আছে। কেউ যদি বলে দেয়, ‘এটা দর্শকের মাথার ওপর দিয়ে যাবে’, তাহলে তো নতুন কিছু সৃষ্টি সম্ভব নয়। নিজের অর্থ সঞ্চয় করে সিনেমা বানিয়েছি। আমরা চলচ্চিত্র করি ভালোবাসা থেকে। দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে সমালোচনার প্রবণতা বেশি, উৎসাহ দেওয়ার প্রবণতা কম। চলচ্চিত্র নির্মাতার যেমন দায়বদ্ধতা আছে, দর্শকেরও তেমন আছে।”
‘রইদ’ সিনেমার পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, ‘দর্শক সাধারণত শিল্পীদের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় দেখতে অভ্যস্ত। যেমন শাকিব খান বা শাহরুখ খানের কাছে তারা নির্দিষ্ট ধরনের বিনোদন প্রত্যাশা করেন। কেউ যদি পরিচিত ধারা থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু করতে চান, সেখানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসবেই। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো— আমাদের নিজেদের মাটি, মানুষ ও অঞ্চলের গল্প খুঁজে বের করতে হবে।’
আমরা চলচ্চিত্র করি ভালোবাসা থেকে। দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে সমালোচনার প্রবণতা বেশি উৎসাহ দেওয়ার প্রবণতা কম। চলচ্চিত্র নির্মাতার যেমন দায়বদ্ধতা আছে দর্শকেরও তেমন আছে।
শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’-এর পরিচালক আজমান রুশো বলেন, ‘চরিত্র প্রস্তুত করতে শিল্পীদের যথেষ্ট সময় দিতে হয়েছে, কিন্তু বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফল দেখতে চান। আমি প্রতিটি ধাপে শিখছি। এটি আমার যাত্রার শুরু। তাই প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা হিসেবে নিচ্ছি।’
‘মালিক’ সিনেমার পরিচালক সাইফ চন্দন বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এফডিসিতেও অনেক আধুনিক সরঞ্জাম নেই। আমাদের বাজার অত বড় নয়। একেকটি সিনেমা বানাতে যে লগ্নি যায়, সেটি তুলে এনে লাভের মুখ দেখা বড় চ্যালেঞ্জ।’
‘মাসুদ রানা’র পরিচালক সৈকত নাসির বলেন, “চলচ্চিত্রের আসল বিষয় হলো, নির্মাতার সৃজনশীল স্বাধীনতা। অনেক অসঙ্গতি নিয়ে আমার অষ্টম চলচ্চিত্র ‘মাসুদ রানা’র নির্মাণকাজ শেষ করতে হয়েছে। জেমস ক্যামেরনের মতো নির্মাতারা একটি সিনেমা বানিয়ে বহু বছর নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। আমাদের দেশে সেই বাস্তবতা নেই।”
গত বৃহস্পতিবার বিকালে টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন নির্মাতারা।




