ক্ষমতা থেকে সামান্য দূরে বিজয়, আবার বহু দূরে...

বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের টিভিকে ১০৮টি আসন জিতে।
তামিলনাড়ুর রাজনীতির মাঠে শুক্রবার যেন চলল এক রুদ্ধশ্বাস সিনেমার শুটিং আর তার মূল নায়ক ছিলেন মেগাস্টার বিজয়। ক্ষমতার একদম দোরগোড়ায় গিয়েও তিনি শেষ মুহূর্তে আটকে গেলেন এক নাটকীয় মারপ্যাঁচে।
অভিনেতা থেকে নেতা হওয়া বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসন জিতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেও সংখ্যাতত্ত্বের গ্যাঁড়াকলে পড়ে তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নটা এখনো আছে ঝুলে। বিজয় নিজে দুই আসনে জেতায় একটি আসন তো এমনিতেই যাচ্ছে কমে, তার ওপর শরিকদের নিয়ে ১১৬ জন পাশে থাকলেও ম্যাজিক ফিগার ১১৮ ছুঁতে না পেরে রাজভবনে গিয়েও তিনি ফিরলেন খালি হাতে।
বিজয়ের পানাইয়ুরের বাড়ির সামনে ভক্তরা যখন খুশিতে ফাটাচ্ছিল আতশবাজি, তখন ঘরের ভেতরে চলছিল দর কষাকষির এক জমজমাট লড়াই। শপথ গ্রহণের সব প্রস্তুতি প্রায় পাকা হয়ে গেলেও সেখানে বাদ সাধল ভিসিকে প্রধান থিরুমাভালাভানের রহস্যময় নীরবতা।
টিভিকে নেতারা তাকে ফোনে পাওয়ার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা চালালেও তিনি তখন উল্টো অন্য দলগুলোর সাথেও গোপনে সারছিলেন মিটিং। এই ফাঁকে ভিসিকে আবার বিজয়ের কাছে আবদার করে বসল যে তাদের নেতাকে দিতে হবে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদ, যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে লেগে গেল এক বিরাট কোন্দল।
রাজনীতির এই খেলায় হঠাৎ করেই আইইউএমএল ঘোষণা দিয়ে বসল যে তারা স্ট্যালিনের ডিএমকে ছাড়বে না কোনোভাবেই, যা বিজয়ের পালে লাগা হাওয়ায় দিল এক বড় ধাক্কা। এদিকে গুজব রটল যে বিজয়ের দাপট কমাতে ডিএমকে আর এআইএডিএমকে ভেতরে ভেতরে কোনো এক তৃতীয় ব্যক্তিকে মুখ্যমন্ত্রী বানানোর আঁটছে ফন্দি।
সেই উত্তাপের মাঝেই শুরু হয়ে গেল চিরচেনা ‘রিসোর্ট রাজনীতি’ আর বিধায়ক কেনাবেচার ধুম। এএমএমকে প্রধান দিনাকরণ তো সরাসরি অভিযোগই করে বসলেন যে বিজয়ের লোকেরা তার এক বিধায়ককে করেছে অপহরণ আর সমর্থনের চিঠিতে বসিয়েছে জাল সই।
বাম দলগুলো অবশ্য বিজয়ের পক্ষ নিয়ে এই লড়াইকে মানুষের ম্যান্ডেট রক্ষার লড়াই হিসেবে ধরল তুলে। তারা দাবি করল যে বিজেপি আর রাজ্যপাল মিলে বিজয়ের বিজয় মিছিলে বাধা দেওয়ার করছে চেষ্টা।
সব মিলিয়ে শুক্রবারের রাতটা তামিলনাড়ুর জন্য ছিল এক বিশাল সাসপেন্স থ্রিলার। বিজয় ক্ষমতার সিংহাসনের খুব কাছে গিয়েও যেভাবে গেলেন থমকে, তাতে এখন সবার মনে আছে একটাই প্রশ্ন, শেষমেশ কি বিজয়ের কপালে জুটবে মুখ্যমন্ত্রীর তিলক নাকি রাজনীতির এই দাবা খেলায় অন্য কেউ করে দেবে কিস্তি মাত?




