কেমন হলো নেটফ্লিক্সের ‘এনোলা হোমস ৩’?

সংগৃহীত ছবি
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর একটি ‘এনোলা হোমস’। বিখ্যাত গোয়েন্দা শার্লক হোমসের ছোট বোন এনোলার অ্যাডভেঞ্চার দেখতে দর্শক সবসময়ই মুখিয়ে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় পর্দায় এসেছে এই সিরিজের তৃতীয় কিস্তি ‘এনোলা হোমস ৩’।
মিলি ববি ব্রাউন অভিনীত এই ছবিটি কি আগের দুটির মতো দর্শকদের মনে জাদু ছড়াতে পারল, নাকি এবার খেই হারিয়ে ফেলল?
এবারের গল্পের পটভূমি ভিক্টোরিয়ান লন্ডনের কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তা থেকে সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে ভূমধ্যসাগরের রোদ-ঝলমলে চমৎকার দেশ মাল্টায়। এনোলা হোমস এবার লর্ড টেক্সবেরির সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু বিয়ের সানাই বাজার আগেই হঠাৎ করে গায়েব হয়ে যান তার বড় ভাই শার্লক হোমস।
ব্যস! ভাইকে খুঁজতে আর আন্তর্জাতিক এক ষড়যন্ত্রের জাল উন্মোচন করতে আবারও গোয়েন্দাগিরির পোশাকে মাঠে নেমে পড়ে এনোলা।
পুরো সিনেমার মূল চালিকাশক্তি মিলি ববি ব্রাউন। পর্দায় তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং দর্শকদের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সেই চিরচেনা স্টাইল পুরো সিনেমা জুড়ে দর্শকদের ধরে রাখে। লর্ড টেক্সবেরির সাথে তার অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি এবং ভিক্টোরিয়ান যুগে একজন স্বাধীন নারী গোয়েন্দা হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার বনাম বিয়ের দ্বন্দ্বের মনস্তাত্ত্বিক রূপটি তিনি দারুণভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন।
বড় ভাই শার্লকের চরিত্রে হেনরি কাভিল স্ক্রিন টাইম কম পেলেও যখনই এসেছেন, নিজের রাজকীয় উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। তাছাড়া ডক্টর ওয়াটসন চরিত্রে হিমেস প্যাটেল এবং মরিয়ার্টি চরিত্রে শ্যারন ডানকান-ব্রুস্টারের অভিনয় ছবিটিকে জমজমাট করেছে।
আগের পর্বে লন্ডনের ম্যাচ ফ্যাক্টরির নারী শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট দেখানো হয়েছিল। এবার ‘এনোলা হোমস ৩’ লঘু মেজাজে হলেও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অন্ধকার দিক, মাল্টায় ব্রিটিশ শাসন এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ‘ব্রিটিশ রাজ’-এর অসমতার ইতিহাসকে গল্পের সাথে চমৎকারভাবে বুনে দিয়েছে।
১০০ মিনিটের কম রানটাইম হওয়ার কারণে সিনেমার গতি ঠিক থাকলেও চিত্রনাট্য এবার কিছুটা দুর্বল। ‘এনোলা হোমস ২’-এ রহস্যের যে গভীরতা এবং টুইস্ট ছিল, এবার তার অভাব স্পষ্ট। মূল রহস্যটি এতটাই সহজবোধ্য যে, ক্লাইম্যাক্সে কী হতে চলেছে তা একজন সাধারণ দর্শকও আগে থেকে সহজে অনুমান করতে পারবেন।
এছাড়া প্রথম দুটি পর্বের পরিচালক হ্যারি ব্র্যাডবিয়ারের বদলে এবার চেয়ারে বসেছেন ফিলিপ বারান্তিনি। তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজির সিগনেচার ভিজ্যুয়াল স্টাইলগুলো নকল করার চেষ্টা করলেও, হ্যারির সেই ইউনিক পরিচালনা বা সিনেমাটিক ব্যক্তিত্বের অভাব এখানে টের পাওয়া গেছে। একই চেনা কমেডি, চেনা অ্যাকশন আর চেনা ধাঁধার পুনরাবৃত্তির কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিতে কিছুটা ক্লান্তির ছাপ লক্ষ্য করা গেছে।
‘এনোলা হোমস ৩’ হয়তো মাস্টারপিস কোনো গোয়েন্দা ছবি নয়, তবে ছুটির দিনে পরিবারের সাথে হালকা মেজাজে দেখার মতো একটি উপভোগ্য পপকর্ন এন্টারটেইনার।





