নিউ ইয়র্কে বসে এফডিসির নির্বাচনে ভোটারদের ‘নিয়ন্ত্রণ’ করেছেন জায়েদ খান!

জায়েদ খান
অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঢাকাই চলচ্চিত্রের শিল্পীদের নেতা নির্বাচনের আয়োজন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। তবে বিগত সময়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দেওয়া এই নির্বাচন এবার কোনো উত্তেজনা তৈরি করতে পারেনি। এর কারণ কী? এই কারণ খুঁজতে গিয়ে যে নামটি বারবার উঠে আসছে, তিনি হলেন জায়েদ খান। সাধারণ শিল্পীরা বলছেন, জায়েদ খান না থাকার কারণে এবার শিল্পী সমিতির নির্বাচন তেমন জমে ওঠেনি। অবশ্য আরেকজনের নামও উঠে আসছে, তিনি হলেন নিপুণ। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে দুজনই এখন শিল্পীদের থেকে দূরে অবস্থান করছেন।
এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন চিত্রনায়ক কায়েস আরজু। আরজুও জানালেন, জায়েদ খান থাকলে হয়তো নির্বাচন নিয়ে তুমুল শোরগোল পড়ে যেত। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচন করা কায়েস আরজু আগামীর সময়কে বললেন, ‘এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট কাস্ট হয়েছে। আমরা মনে করছি, এবারের নির্বাচনটা খুবই ভালো হয়েছে। তবে সামগ্রিক যে আলোচনা, সেটা এবার হয়নি। জায়েদ খান ভাই থাকলে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এই নির্বাচন নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হতো, শোরগোল তৈরি হতো।’
তবে শোনা যাচ্ছে, জায়েদ খান দেশে না থাকলেও সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রভাব রেখেছেন। শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেলকে জেতাতে তিনি ভোটারদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রভাবিত করেছেন। চিত্রনায়ক ওমর সানীর ফেসবুক থেকে প্রথম এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। ওমর সানী ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘৩ জুলাই শিল্পী সমিতির নির্বাচন। যার কারণে শিল্পীদের মাঝে বিভাজন তৈরি হয়েছিল (সে পলাতক, বিদেশে আছে), তার গড়া কয়েকজনকে চিহ্নিত করুন। মানুষ ভুল করে একবার, দুইবার, তবে বারবার নয়।’ ওমর সানী প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের মুক্তিকে জেতাতে ফেসবুকে প্রচারণাও চালিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুক্তিও জিততে পারেননি।
সভাপতি পদে শিবা শানু পেয়েছেন ২৪৩ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জয় চৌধুরী। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।
শিবা শানু ও জয় চৌধুরীর প্যানেলকে জেতাতে জায়েদ খান রীতিমতো আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছিলেন। নির্বাচনের কয়েকদিন আগেও প্যানেলটি অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। কিন্তু জায়েদ খান যুক্ত হওয়ায়...
কিভাবে জায়েদ খান নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করেছেন?
নিউইয়র্কে বসেই জায়েদ খান প্রতিটি ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছেন ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপে ও মেসেঞ্জারে। প্রতিটি ভোটারের কাছে তিনি পূর্বের সেবা প্রদানের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। শিবা শানু ও জয় চৌধুরীর প্যানেল যে তাঁরই প্যানেল, সেটি ভোটারদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন জায়েদ খান। ফলে ভোটারদের একটি বড় অংশ জায়েদ খানের কথায় প্রভাবিত হয়ে বিজয়ী প্যানেলকে ভোট দিয়েছেন।
আগামীর সময়কে চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, শিবা শানু ও জয় চৌধুরীর প্যানেলকে জেতাতে জায়েদ খান রীতিমতো আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছিলেন। নির্বাচনের কয়েকদিন আগেও প্যানেলটি অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। কিন্তু জায়েদ খান যুক্ত হওয়ায় এই প্যানেলের পালে হাওয়া লাগে। বলা যায়, আলোচনায় না থাকলেও ওমর সানী ও জায়েদ খানের পুরোনো লড়াইটা ভোটের মাঠে হয়ে গেছে, যেখানে জিতে গেছেন জায়েদ খান, হেরে গেছেন ওমর সানী।
জায়েদ খান যে এই নির্বাচনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছেন, সে কথা কায়েস আরজুর কণ্ঠেও পাওয়া গেল। আরজু বলেন, ‘জায়েদ ভাই আমাদের সঙ্গে সবসময় ছায়া হয়ে পাশে ছিলেন। আমাদের নানা পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিনিয়ত তাঁর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল।’
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, জায়েদ খানের প্রভাবিত করার নেপথ্যে রয়েছে জায়েদ খানের শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা। করোনার সময় জুনিয়র শিল্পীরা অনাহারে থাকেননি জায়েদ খানের কারণে। তিনি নানা জায়গা থেকে ফান্ড এনে শিল্পীদের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত কিংবা মৃত শিল্পীদের বাড়িতে ছুটে গেছেন। সে সময় জায়েদ খানের একটি পরীক্ষা হয়ে গিয়েছিল। সেটাই এবার কাজে লেগেছে। ফলে দূরে বসে জায়েদ খানের পক্ষে ভোটারদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়েছে।
জায়েদ খানের সঙ্গেও এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়। নিউইয়র্কে বসে এফডিসির এই নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করতে না চাইলেও তিনি বললেন, ‘আসলে আমি দেশে নেই, প্রিয় এফডিসিতে নেই। এটা ভেবে এই দূরদেশে বসে কষ্ট হচ্ছে। যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, শিল্পী ও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা তো হতেই পারে। এটা স্বাভাবিক নয়?’





